Sunday , November 18 2018
Home / জাতীয় / টানা বর্ষণে রাজধানীতে জলাবদ্ধতা চরম দুর্ভোগে রাজধানীবাসী

টানা বর্ষণে রাজধানীতে জলাবদ্ধতা চরম দুর্ভোগে রাজধানীবাসী

অনলাইন ডেস্কঃ রাজধানীতে আজ বুধবার স্মরণকালের সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। এ কারণে ঢাকার অধিকাংশ সড়কেই পানি জমে যায়। মূল সড়ক থেকে অলিগলি হাটু থেকে কোমর সমান পানি জমে যাওয়ায় রাজধানীজুড়ে পানি থৈই থৈই করতে থাকে। এ পানির মধ্য দিয়ে গাড়ি চলাচল করার সময় রাস্তার দুপাশে ঢেউ আঁছড়ে পড়তে থাকে। এতে এক একটি রাস্তা দেখে মতো মনে হয় যেন এক একটি নদী। মূলত খালগুলো বন্ধ হওয়া ও ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনা অকার্যকর হয়ে যাওয়ায় পানি অপসারনে ধীর গতির কারণে দীর্ঘ সময় পানি আটকে এ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এর সাথে রাস্তা খোঁড়াখুড়ি ও দীর্ঘ যানজটের কারণে অসহনীয় ভোগান্তিতে পড়েন নগরবাসী।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলাগুলোতে গত ২৩ জুলাই স্থল লঘুচাপের সৃষ্টি হয়। পরদিন ২৪ জুলাই তা শক্তি সঞ্চয় করে সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়ে গেলে শুরু হয় আকাশে ঘন-কালো মেঘের আনা-গোনা। শুরু হয় হালকা থেকে মাঝারী ধরনের বৃষ্টি। ২৫ জুলাই সারাদিনই আকাশ কালো মেঘে ঢেকে থাকে এবং ভারী বৃষ্টিপাত হয়।

আর আজ সারাদিনে ৬৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে বলে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে।

তবে আগারগাঁয়ের অফিস থেকে ধারণ করা এ চিত্রের চেয়ে রাজধানীর অন্যান্য এলাকায় বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে বলে আবহাওয়াবিদদের ধারণা।

স্মরণকালের এত বেশি পরিমাণ বৃষ্টিপাত হওয়ায় তলিয়ে যায় রাজধানীর অধিকাংশ রাস্তাঘাট। মূল সড়ক থেকে অলিগলি কোথাও হাটু পানি আবার কোথাও কোমর সমান পানি জমে যায়।

সরজমিন দেখা গেছে, বৃষ্টিপাতের কারণে রাজধানীর মিরপুর-১০ থেকে কাজীপাড়া-শ্যাওড়াপাড়া সড়কে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এ সড়কের দুই লেনেই হাটু সমান পানি জমে যায়। আজ রাত পর্যন্তও এ পানি জমে ছিল। মূল সড়কে পানি থাকায় আশেপাশের অলিগলিতেও ছিল হাটু পানি। এ পানির মধ্য দিয়ে চলতে গিয়ে সব ধরনের যানবাহনের গতি ধীর হয়ে যায়। এতে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়।

কারওয়ান বাজারে দেখা যায়, হোটেল সোনারগাঁও থেকে মগবাজার ফ্লাইওভার পর্যন্ত কোমর সমান পানি জমে গেছে।
এছাড়া ফার্মগেট থেকে কারওয়ান বাজার সড়কেও পানি জমে যায়।

পান্থপথসহ আশোপাশের সড়কেও পানি জমে ছিল। এ কারণে কারওয়ান বাজার মোড় থেকে সব পথেই তীব্র যানজট দেখা যায়।

এ সুযোগে ভ্যান ও রিকশা পারাপার করতে দেখা যায়। ২০-৫০ মিটার পথ যেতে আরোহীদের গুনতে হয় ২০-৩০ টাকা।

পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে আজ কোমর সমান পানি জমে যায়। এতে সিএনজি-প্রাইভেটকার, মটরসাইকেলে পানি ঢুকে নষ্ট হয়ে যায়। এছাড়া রাস্তা ভাঙ্গাচোরা থাকায় অনেক রিকশা উল্টে যায়।

মিরপুরের কালশী সড়কে আজ পানির ঢেউ আছড়ে পড়তে থাকে। শিশুদের এ পনির মধ্যে খেলা করতে দেখা যায়।

ব্যাংকপাড়া খ্যাত মতিঝিল থেকে দৈনিক বাংলা সড়কে পানি থৈই থৈই করতে থাকে। এ কারণে দুপাশের দোকানপাট বন্ধ রাখতে দেখা যায়।

বাংলাদেশ ব্যাংক চত্বরেও হাটু পানি জমে যায়। আর কে মিশন রোড, গোপিবাগেও পানি জমে যায়। পুরানা পল্টন সংলগ্ন সচিবালয়ের সড়কগুলোতেও পানি জমে যায়। উত্তরার বিমানবন্দর এলাকা, আশকোনা রোডসহ আশোপাশের এলাকায় হাটু পানি জমে চরম ভোগান্তিতে পড়েন হজযাত্রীসহ এলাকাবাসী। ধানমন্ডি ২৭ নম্বরের মিরপুর রোডে দেখা যায় পানি আর পানি। এ সড়কে গতকাল সকাল থেকে রাত পর্যন্ত তীব্র যানজট লেগে থাকে।

শান্তিনগর, রাজারবাগ, ফকিরাপুল, বিজয়নগরসহ আশেপাশের প্রতিটি সড়কেই ছিল হাটু সমান পানি। এসব সড়কে ড্রেন নির্মাণ করতে রাস্তা খূড়ে রাখা হয়েছে। এছাড়া ফুটপাতগুলোও ভাঙ্গা থাকায় অসহনীয় দুর্ভোগে পড়ে মানুষ। খিলগাঁও মূল সড়ক থেকে চৌধুরীপাড়া আবুল হোটেল পর্যন্ত বাইপাস সড়কে হাটু পানি জমে যায়। এছাড়া এ সড়কের আশেপাশের সড়কগুলোতেও পানি জমে যাওয়ায় চলাচলে ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়ে মানুষ।

বনশ্রী থেকে রামপুরা ব্রিজ পর্যন্ত সড়ক দীর্ঘদিন থেকে ভেঙেচুরে গেছে। এ সড়কে পানি জমে যাওয়ায় অবর্ণনীয় দুর্ভোগের শিকার হয় এলাকাবাসী।

শুধু এসব এলাকায়ই নয়, মোহাম্মদপুর, আগারগাঁও, ধানমন্ডি, গুলশান, খিলক্ষেত, বাড্ডা, রামপুরা, তেজগাঁও, সংসদ ভবন, মালিবাগ, মৌচাক, কমলাপুর, যাত্রাবাড়ী, সায়েদাবাদ, মানিকনগর, বাসবো, মুগদা, মান্ডা, সিপাহীবাগসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।

সারাদিনের বৃষ্টিপাত ও জলাবদ্ধতার কারণে অফিস ও স্কুলগামীরা বেশ সমস্যায় পড়েন। ছাতা-রেইনকোর্ট নিয়ে বের হন নগরবাসী। তারপরও টানা বৃষ্টিপাতের কারণে রাস্তায় বেরিয়েই ভোগান্তির শিকার হন। অলিগলির সড়কে হাটু পানি মাড়িয়ে মূল রাস্তায় আসতে হয়। এরপর রিকশা সংকট। যেগুলো পাওয়া যায় তাতে চালকরা দ্বিগুন-তিনগুন ভাড়া হাকান। অনেকে বেশি ভাড়া গুনে গন্তব্যস্থলে গেলেও আবার অনেকে পায়ে হেটেই রওনা হন। আর যারা গণপরিবহনে যাওয়ার চেষ্টা করেন তারাও পড়েন যানজটের ভোগান্তিতে।

সিএনজি চালিত অটোরিকসা, মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার ওয়ালাদের জন্য আজকের দিনটি ছিল ভয়াবহ।

পানির মধ্যে মাঝ রাস্তায় বাসগুলো বন্ধ হয়ে না গেলেও সিএনজিচালিত অটোরিকসা, মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকারের ইঞ্জিনে পানি প্রবেশ করে মাঝ রাস্তায় বন্ধ হয়ে অন্যান্য যানবাহনের জন্য দুর্ভোগ বাড়িয়েছে অনেক বেশি।

আজ এমন কয়েকশ’ যানবাহন রাস্তায় বন্ধ হয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়। ছোট বাহনগুলো যেমন মোটরসাইকেল, অটোরিকসা এমনকি সিএনজিচালিত ছোট প্রাইভেটকারগুলো ঠেলে-ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে নিয়ে গেলেও ভারী যানবাহনগুলো দীর্ঘক্ষণ রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখা যায়।

অন্যান্য যানবাহনের জন্য দুর্ভোগ হলেও রিকসাওয়ালাদের ছিল আজ আনন্দের দিন। আকাশ ছোয়া ভাড়া হাকিয়েও যাত্রীদের ধমক খেতে হয়নি আজ। ২০ টাকার ভাড়া দিয়েছে ১০০ টাকা। এতো ভাড়া দিতে চাইলেও অনেকে রিকসা পাননি গন্তব্যে যেতে।

টপারবিডি/ম আ রু

আরও পড়ুন

আগামী নির্বাচনে মহাজোটের সঙ্গে থাকবো কিনা সেটা পরিস্থিতিই বলে দেবে

টপারবিডি ডেস্কঃ প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত ও জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ বলেছেন, আগামী নির্বাচনে …