Wednesday , November 14 2018
Home / আন্তর্জাতিক / কে হচ্ছেন পাকিস্তানের নতুন প্রধানমন্ত্রী ?
নওয়াজ শরীফ এখন সাবেক প্রধানমন্ত্রী

কে হচ্ছেন পাকিস্তানের নতুন প্রধানমন্ত্রী ?

অনলাইন ডেস্কঃ পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট গত কাল শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নওয়াজ শরিফকে অযোগ্য ঘোষণা করার পর পদত্যাগ করেছেন তিনি। এখন প্রশ্ন উঠেছে কে হচ্ছেন তার স্থলাভিষিক্ত অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী?

সুপ্রিমকোর্টের নির্দেশে প্রধানমন্ত্রিত্ব ছাড়লেও শাসক দল পাকিস্তান মুসলিম লীগ (পিএমএল-এন) এর সর্বময় কর্তা নওয়াজই। পদ ছাড়লেও নওয়াজ শরিফ তার উত্তরসূরি বাছাইয়ে ভূমিকা পালন করতে পারবেন। সুতরাং তার পছন্দের ব্যক্তিই যে প্রধানমন্ত্রী পদে বসতে চলেছেন, সে নিয়ে সংশয় কমই।

দেশটির মিডিয়ার খবরে বলা হয়, মেয়ে মারিয়াম নওয়াজকে নিজের রাজনৈতিক উত্তরসূরি হিসেবে ভেবে আসছিলেন নওয়াজ। কিন্তু এই মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী পদে তাকে লড়তে দেয়া যাচ্ছে না। কারণ তিনি নির্বাচিত কোনো সংসদ সদস্য নয়। তবে ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগ পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সম্ভাব্য বেশ কয়েকজনের নাম আসছে। এর মধ্যে সবার চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন নওয়াজ শরীফের ভাই শাহবাজ শরিফ তারপর প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ, স্পিকার সরদার আইয়াজ সাদিক এবং  সংসদ সদস্য আহসান ইকবাল।

নওয়াজ শরীফের ভাই শাহবাজ শরিফ হলে তাকে পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়বে হবে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন ।আরেকজন সম্ভাব্য হিসেবে ভাবা হচ্ছে, জাতীয় পরিষদের স্পিকার সরদার আইয়াজ সাদিক। যুক্তরাষ্ট্র থেকে পড়াশুনা শেষ করা ও শরীফ পরিবারের খুব কাছের লোক হিসেবে পরিচিত সংসদ সদস্য আহসান ইকবালও আছেন এই তালিকায়। বর্তমানে তিনি দেশটির পরিকল্পনা ও উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন।

শাহবাজ শরিফের দায়িত্ব গ্রহণের আগে অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব পালন করতে পারেন উপরের যে কোনো একজন। ভাই শাহবাজ শরীফের হাতে ক্ষমতার রশি থাকলে শরীফ পরিবার নিরাপদ বোধ করবে, সেটা বলাই বাহুল্য।

২০১৬ সালে পানামা পেপার্স ফাঁস হওয়ার পর নওয়াজ এবং তার পরিবারের সদস্যদের নামে বিদেশে বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি থাকার তথ্য সামনে আসে। দেশে-বিদেশ তার ও পরিবারের নামে বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি যে রয়েছে, তা নওয়াজ অস্বীকার করেননি।

তিনি জানান, ওই সম্পত্তি তিনি তার পারিবারিক ব্যবসার সূত্রের অর্জন করেছেন। কিন্তু বিরোধী শিবির নওয়াজের এই ব্যাখ্যা মানতে রাজি হয়নি। তাকে প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে বরখাস্ত করার আবেদন জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয় বিরোধীরা।

চলতি বছরের এপ্রিলে পাকিস্তানের সর্বোচ্চ আদালত জানিয়েছিল, নওয়াজকে বরখাস্ত করা হবে না। তার বিরুদ্ধে ‘যথেষ্ট প্রমাণ’ মেলেনি বলে আদালত সে সময় জানিয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ খতিয়ে দেখা দরকার বলে সুপ্রিমকোর্ট মেনে নিয়েছিল এবং তদন্তকারী দল গঠন করে অভিযোগের সারবত্তা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছিল।

সেই তদন্তকারী দল সুপ্রিমকোর্টে নিজেদের রিপোর্ট জমা দিয়েছে। শরিফ পরিবারের যা উপার্জন, তার সঙ্গে তাদের সম্পত্তির পরিমাণ এবং জীবনযাত্রার মান সঙ্গতিপূর্ণ নয় বলে তদন্তকারী দল আদালতকে জানিয়েছে।

এই রিপোর্টের ভিত্তিতেই নওয়াজের বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্ত শুরুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সুপ্রিমকোর্টের রায় নিয়ে নওয়াজের অনেক প্রশ্ন রয়েছে বলে তার ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে। তবে তিনি রায়কে আপাতত মেনে নিয়ে প্রধানমন্ত্রিত্ব ছেড়ে দিয়েছেন।

টপারবিডি/ম আ রু

আরও পড়ুন

চীনা সেনাবাহিনীকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতির নির্দেশ

অনলাইন ডেস্কঃ সর্বদা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকতে ও মৃত্যুকে ভয় না পেতে সেনাবাহিনীর প্রতি আহ্বান …