Saturday , December 15 2018
Home / জাতীয় / কে এই ‘ধর্ষক’ তুফান সরকার?তার সম্পর্কে জানলে অবাক হবেন!!

কে এই ‘ধর্ষক’ তুফান সরকার?তার সম্পর্কে জানলে অবাক হবেন!!

অনলাইন ডেস্কঃ বগুড়ায় ভালো কলেজে ভর্তির প্রলোভন দেখিয়ে এক ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত তুফান সরকার এখন সারা দেশের মানুষের কাছে এক আলোচিত নাম। ক্ষমতার মোহে তিনি এতোটাই বেপরোয়া হয়ে উঠেছিলেন যে, ধর্ষণের পরও তিনি ক্ষ্যান্ত হননি। নিজের ক্যাডার বাহিনী দিয়ে নির্যাতিতা কিশোরী ও তার মা’কে তুলে মারপিট এবং নির্যাতনের পর দু’জনের মাথা ন্যাড়া করার মতো মধ্যযুগীয় বর্বরতার ন্যায় কাজ করেছেন তিনি। এ ঘটনা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ার পর প্রশ্ন উঠেছে কে এই তুফান সরকার?

বগুড়া শহরের চকসুত্রাপুর কসাইপাড়া এলাকার মজিবর রহমানের ছেলে তুফান সরকার। বড় ভাই বগুড়া শহর যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিন সরকার। স্ত্রীর বড় বোন স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর। আর নিজে জাতীয় শ্রমিক লীগ বগুড়া শহর শাখার আহবায়ক।  মোট কথা ক্ষমতার দাপটে বগুড়ায় এক ভয়ংকর নাম এই তুফান সরকার। ক্ষমতার বলয়ে তাদের পরিবার বলে টু শব্দটি করার জো নেই তাদের বিরুদ্ধে।

যদিও তুফানের উত্থান আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর। বগুড়ায় জুয়ার আসর দিয়ে তার অবৈধ আয়ের যাত্রা শুরু। এরপর মাদক ব্যবসা। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বগুড়ার মাদক রাজ্যের নিয়ন্ত্রক।  

বড় ভাইয়ের সুবাদে রাজনীতিতে নাম লেখিয়ে পরবর্তীতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন শহর শ্রমিক লীগের শীর্ষ পদ বাগিয়ে নেন। এরপর শুরু হয় ব্যাটারিচালিত রিকশার লাইসেন্স ব্যবসা। ব্যাটারিচালিত এসব রিকশা রাস্তায় নামানোর আগে প্রতিটির জন্য ২ হাজার ৫০০ টাকা নজরানা দিতে হয় তুফানকে। হিসাব করলে দেখা যায় বগুড়া শহরে বর্তমানে ২০ হাজার ব্যাটরিচালিত রিকশা চলছে। সেই হিসাবে কি পরিমাণ চাঁদা তিনি আদায় করেছেন তার ব্যাখ্যার প্রয়োজন নেই। আর প্রতিদিন এসব রিকশা থেকে ৩০ টাকা করে চাঁদা তোলা আছেই। এতে গড়ে প্রতিদিন ১০ হাজার রিকশা থেকে তিন লাখ টাকা চাঁদা তুফানের দরবারে চলে যায়। গরিব এসব রিকশাচালকের কাছ থেকে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করে কোটিপতি এখন তিনি।

খবর নিয়ে জানা গেছে, সর্বশেষ ছাত্রী ধর্ষণ ও নির্যাতনের অভিযোগে করা দুটি মামলাসহ  তুফান সরকারের বিরুদ্ধে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, মাদক ব্যবসা সংক্রান্ত ছয়টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ফেনসিডিলসহ একবার গ্রেফতারও হয়েছিলেন। এছাড়া ২০১৩ সালে যুবদল নেতা ইমরান হত্যা মামলারও আসামি তিনি।

ধর্ষণের পর মারপিট এবং নির্যাতনের পর ধর্ষিতা ও তার মা’র মাথা ন্যাড়ার ঘটনায় রোববার দুপুরে তুফান সরকার, তাঁর সহযোগী রুপম ও আলী আজমের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। তুফান সরকারসহ তিনজনকে ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। রবিবার দুপুরে বগুড়ার অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম শ্যামসুন্দর রায় এ আদেশ দেন।

এছাড়া প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকারোক্তি দেওয়ায় আতিকুর রহমানকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হয়নি।

মামলার অন্যতম ২ আসামি পাবনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে থেকে বগুড়া পৌরসভার সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মার্জিয়া আক্তার রুমকি ও তাঁর মা রুমি বেগমকে গ্রেপ্তার করে বগুড়ার ডিবি পুলিশের একটি দল।

এছাড়াও  রোববার দিবাগত রাত ১১টার দিকে সাভারের হেমায়েতপুর থেকে তুফানের স্ত্রী আশা আক্তার এবং দুই সহযোগী জিতু ও মুন্নাকে গ্রেফতার করেছে সাভার থানা পুলিশ।আটকের পর তাদের বগুড়ায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

টপারবিডি/ম আ রু

আরও পড়ুন

আগামী নির্বাচনে মহাজোটের সঙ্গে থাকবো কিনা সেটা পরিস্থিতিই বলে দেবে

টপারবিডি ডেস্কঃ প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত ও জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ বলেছেন, আগামী নির্বাচনে …