Sunday , November 18 2018
Home / বিনোদন / যেভাবে চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি হলেন নায়করাজ রাজ্জাক
নায়করাজ রাজ্জাক

যেভাবে চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি হলেন নায়করাজ রাজ্জাক

অনলাইন ডেস্কঃ নায়করাজ বলতে এক জনকেই বোঝানো হয়। তিনি হলেন বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি নায়ক আবদুর রাজ্জাক।
তিনি শুধু অভিনেতাই ছিলেন না, তিনি একাধারে প্রযোজক ও পরিচালক হিসেবে চলচ্চিত্র অঙ্গনে ভূমিকা পালন করেছেন।

ষাটের দশকের মাঝের দিকে তিনি চলচ্চিত্র অভিনেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। ষাটের দশকের বাকি বছরগুলোতে এবং সত্তরের দশকেও তাকে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পের প্রধান অভিনেতা হিসেবে বিবেচনা করা হত

আব্দুর রাজ্জাক জন্মগ্রহণ করেছিলেন ১৯৪২ সালের ২৩ জানুয়ারি, অবিভক্ত বাংলায়, কলকাতার টালিগঞ্জে৷ স্কুলে পূজার অনুষ্ঠানে মঞ্চনাটক করতে গিয়ে আকৃষ্ট হন অভিনয়ের প্রতি৷
১৯৬১ সালে অভিনয়ে ক্যারিয়ার গড়তে রাজ্জাক চলে যান মুম্বাইয়ে৷ কিন্তু সেখানে ব্যর্থ হয়ে ফেরত আসেন টালিগঞ্জে৷ সেখানেও সফল না হয়ে ১৯৬৪ সালে পাড়ি জমান বাংলাদেশে (তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তান)৷

কাজ শুরু করেন আব্দুল জব্বার খানের সহকারি পরিচালক হিসেবে৷ এর মধ্যেই ‘তেরো নাম্বার ফেকু ওস্তাগর লেন’ চলচ্চিত্রে ছোট ভূমিকায় অভিনয় করেন তিনি৷ ‘ডাকবাবু’, উর্দু ছবি ‘আখেরি স্টেশন’সহ কয়েকটি চলচ্চিত্রেও ছোট ছোট ভূমিকায় অভিনয় করেন তিনি৷

এসব চরিত্রে অভিনয় করে প্রশংসা কুড়ালেও, ক্যারিয়ারে আসছিল না গতি৷ কিন্তু বাংলা চলচ্চিত্রের আরেক কিংবদন্তি জহির রায়হানের বেহুলা চলচ্চিত্রে নায়কের ভূমিকায় সুযোগ পান রাজ্জাক৷ চলচ্চিত্রে তার ভূমিকা ছিল লখিন্দরের৷ বিপরীতে নায়িকা ছিলেন সুচন্দা৷
দর্শকেরা লুফে নেয় নতুন এই জুটি৷ সুপারডুপার হিট এই ছবির পর আর কেউ আটকে রাখতে পারেনি রাজ্জাককে৷

এরপর বাংলা চলচ্চিত্রের এই সুদর্শন অভিনেতা জুটি গড়েছেন ববিতা, শাবানাসহ সে সময়কার প্রায় সব জনপ্রিয় অভিনেত্রীর সাথে৷ তবে দর্শকদের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় হয়েছিল রাজ্জাক-কবরী জুটি৷
বাংলার মানুষের কাছে তিনি পরিচিত হয়ে ওঠেন ‘নায়করাজ’ নামে৷ ষাটের দশকে চলচ্চিত্রে ক্যারিয়ার শুরুর পরই দর্শকদের মনে চিরস্থায়ী স্থান করে নেন এই শক্তিশালী অভিনেতা৷

সাদা-কালো থেকে রঙিন, ছোট পর্দা থেকে বড় পর্দা, পূর্ব পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ, প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে দাপটের সাথে রাজত্ব করেছেন এই রাজা৷

বৈচিত্র্যময় ক্যারিয়ারে অভিনয় করেছেন পাঁচ শতাধিক বাংলা ও উর্দু চলচ্চিত্রে৷ রাজ্জাকের উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে ‘জীবন থেকে নেয়া’, ‘নীল আকাশের নীচে’, ‘আনোয়ারা’, ‘সুয়োরাণী-দুয়োরাণী’, ‘দুই ভাই’, ‘মনের মতো বউ’, ‘ময়নামতি’, ‘ক খ গ ঘ ঙ’, ‘বেঈমান’৷
বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ‘রংবাজ’ দিয়ে বাংলাদেশে অ্যাকশনধর্মী চলচ্চিত্রের সূচনাও ঘটান রাজ্জাক৷ নিজে পরিচালনা করেছেন ‘বদনাম’, ‘সৎ ভাই’, ‘চাপা ডাঙ্গার বউ’সহ ১৬টি চলচ্চিত্র৷

রাজ্জাক স্ত্রী লক্ষ্মী (খায়রুন নেসা), তিন ছেলে বাপ্পারাজ, বাপ্পি ও সম্রাট এবং দুই মেয়ে শম্পা ও ময়নাকে রেখে গেছেন৷ তার ছেলেরাও চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন৷

টপারবিডি/বাংলা ৭৭

 

আরও পড়ুন

সালমানের ‘টাইগার জিন্দা হ্যায়’ ছবির সাফল্যের পেছনে মোদি??

সালমান খান অভিনীত সদ্য মুক্তি পাওয়া ‘টাইগার জিন্দা হ্যায়’ ছবির সাফল্যের সঙ্গে নাকি জড়িয়ে আছেন …