Friday , October 22 2021
Home / ক্যারিয়ার / অফিসের বসের কাছে কিভাবে সেরা হবেন, জেনে নিন!

অফিসের বসের কাছে কিভাবে সেরা হবেন, জেনে নিন!

অনলাইন ডেস্কঃ অফিস নামক প্রতিষ্ঠানে বস ছাড়া গতি নেই। বস মানেই গম্ভীর এক ব্যক্তি, যার সঙ্গে কথা বলতে হয় বুঝেসুঝে। বস মানেই বকুনি আর কদাচিৎ কিছু প্রশংসা বা কাজের ফিরিস্তি ধরিয়ে দেওয়া লম্বা লিস্ট। তার হাতেই ক্ষমতা রয়েছে আপনার স্যালারি প্যাকেজ কী হবে, ছুটি মঞ্জুর হবে কিনা। আপনার চাকরির মেয়াদটাও তার হাতে। বসের হাতেই উন্নতির চাবিকাঠি। তাই বসকে খুশি রাখতেই হবে।জানতে হবে তার সম্পর্কে।

বস কত প্রকার ও কী কী আগে জানতে হবে?

মনের মতো বসঃহালকা মেজাজের মজার মানুষ! এমন বস উপরওয়ালার আশীর্বাদ। এই বসরা আপনাকে নিজের মতো কাজ করার সুযোগ দেন। ইমোশনাল কথাবার্তা বলে চাপ সৃষ্টি করতে পারেন। এমন কিছু নিয়ে ব্যস্ত থাকেন, যার সঙ্গে আপনার সম্পর্ক নেই। যদি দরকার পড়ে আপনার দোষ উনার ওপর চাপিয়ে দিতে পারবেন। তবে আপনার ব্যর্থতার দায় উনার ঘাড়ের ওপর পড়বে না। এ ধরনের বসের সুবিধা নিয়ে খুব বেশি উচ্চাকাক্সক্ষী হয়ে পড়বেন না।

নিজের মতো বস : এ ধরনের বস একেবারে আপনার মতো হন। আপনি যেভাবে কাজ করতে পছন্দ করেন, উনিও তাই। আপনার যা ভুল হয়, উনারও তাই। অর্থাৎ আপনি বস হলে যা যা করতেন, উনি তাই করেন। এ ধরনের বসের সুবিধা হলো আপনার মাথায় যে যে আইডিয়া আসছে, তা উনার মাথায় ঢুকিয়ে দিন। উনার অবশ্যই ভালো লাগবে। কারণ উনি তো আপনার মতো। এ ধরনের বস পেলে সুযোগের সদ্ব্যবহার করুন। তবে একটু দূরত্ব রাখুন, কারণ খুব বেশি আইডিয়া ডিসকাস করবেন না। দুজনের মত মিলে যাবে। তাতে আপনার আত্মবিশ্বাস এত বেড়ে যাবে, আপনি উড়তে শুরু করবেন; যা আপনার পেশা ও ক্যারিয়ারের জন্য ভয়ঙ্কর ব্যাপার।

বুদ্ধিমান বস : এ ধরনের বস আপনার কাজ সম্পর্কে আপনার চেয়ে অনেক ভালো জানেন। আপনি তাকে পছন্দ করেন কী করেন না, তা তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। তার সামনে থেকে সাবধান থাকুন। তার সামনে ওভার স্মার্টনেস দেখালেই আপনি আহাম্মক বনে যাবেন। তাকে হারানোর চেষ্টা বৃথা। আপনি ‘সের’ হলে তিনি ‘সোয়া শের’। তাই তার সঙ্গে দ্বিমত রাখবেন না। বোকা হয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

পরিশ্রমী বস : প্রতিভাবান এই মানুষ এক কথায় কাজপাগল। নিজে যেমন খাটতে পারেন, অন্যদের থেকে ঠিক তাই আশা করেন। তবে প্রতিষ্ঠানের ভালো কিসে হবে, তা উনি ছাড়া আর কেউ বোঝেন না। সেই মত পাল্টাতেও পারেন। কারণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা একমাত্র তারই। এই ধরনের বসের সামনে সব সময় মাথা নিচু করে থাকুন। কাজ করুন। অপ্রয়োজনীয় কথা একদম বলবেন না। অ্যাটেনশন পাওয়ার চেষ্টা করবেন না। উনি সেটায় রেগে যেতে পারেন। কোনো ষড়যন্ত্র করবেন না তার বিরুদ্ধে। কারণ উনি কিন্তু সব জানেন। বরং বসের কাছের লোকদের এমনভাবে প্রভাবিত করুন, যাতে তারা আপনার সম্পর্কে তার কাছে ইতিবাচক কথা বলেন।

যেভাবে বসকে ম্যানেজ করবেন

কমবেশি সবাই একই অভিযোগ করেন তা হলো, বসের সঙ্গে বনিবনা হয় না। বস আমাকে দেখতে পারেন না, বস আমার ওপর অত্যাচার করেন, বসের সঙ্গে আমার শত্রুতা আছে, এমন কথা হরহামেশাই বলতে শোনা যায়। বসকে পটানো কি এতটাই অসাধ্য কাজ? নাহ, মোটেই না। বসদের হাতে রাখা যায় সে ব্যাপারে অল্প-বিস্তর জ্ঞান সবারই রয়েছে। রইল কিছু পরামর্শ।

আপনার চারপাশে সুনামি হয়ে গেলেও নিজের মাথা সব সময় ঠান্ডা রাখুন। বসরা সব সময় তাদের ওপরেই বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েন, যারা ঠান্ডা মাথায় কাজ করতে পারেন।

বসের মন জিততে তার প্রতিষ্ঠানের সুনাম করুন। আর তিনি যদি প্রতিষ্ঠানের মালিক বা উদ্যোক্তা হয়ে থাকেন তাহলে তো কথাই নেই। নিজের গড়া প্রতিষ্ঠানের সুনাম শুনে কে খুশি না হয়ে পারে! তবে তোষামোদি আর প্রশংসার মধ্যে পার্থক্য মাথায় রাখুন। বেশি বেশি করে গুণগান করলে বুঝতে পারেন আপনার আসল উদ্দেশ্য কী। সে ক্ষেত্রে বস আপনাকে এড়িয়ে চলতেও পারেন। তাই মেপেজুপে প্রশংসা করুন।

প্রতিদিন সময়মতো কাজে উপস্থিত থাকুন। দেরি করে অফিসে ঢুকবেন না। মাসে এক-আধ দিন দেরি করে এলে কিছু হবে না, কিন্তু প্রতিদিন দেরি করে ঢুকলে বস মুখে কিছু না বললেও লংটার্মে তার প্রভাব পড়তে পারে। বস যেমনই হোক না কেন, সময়মতো কাজে আসা কর্মীকে তিনি ফেভার করবেনই।

যখন-তখন ছুটি নেবেন না। ঘন ঘন ছুটি নেওয়া কোনো বসই পছন্দ করেন না। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ছুটি নেবেন না। চেষ্টা করবেন, হাফ-ডে লিভ নিতে। আপনি যে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অফিসে আসার চেষ্টা করেন সেটা বোঝান।

অফিসে বসে যারা দীর্ঘ সময় ব্যক্তিগত ফোনে কথা বলেন যান, তাদের নাম কখনো বসের গুডবুকে ওঠে না। খুব দরকারি ফোন এলে ঘরের বাইরে গিয়ে কথা বলুন। বেশিক্ষণ কথা বলাটা খুব জরুরি হলে অনুমতি নিন।

বস সব সময়ই ভ্যালুয়েবল রিসোর্স। শুধু টিমের কাজ নয়, নিজে সমস্যায় পড়লেও তার কাছে যান। তার কাছে দুর্বলতা বা সমস্যা আড়াল করলে সমস্যা বাড়ে বই কমে না। আপনার জায়গায় উনিও একসময় ছিলেন। তাই উনার অভিজ্ঞতা দিয়ে সমস্যার সমাধান হতে পারে। এর সঙ্গে সঙ্গে বসেরও মনে হবে যে কর্মী হিসেবে আপনি উনাকে ভরসা করেন।

যখন কোনো দায়িত্ব নেওয়ার ব্যাপার আসেন, তখন অন্যদের জন্য অপেক্ষা না করে নিজেই কাজের ভারটি নিন। সাধারণত নিজে থেকেই দায়িত্ব নিতে পারে এমন মানুষকেই বসরা পছন্দ করেন। আবার ধরুন, আপনার মাথায় কোনো প্রোডাকটিভ প্ল্যান বা নতুন বিজনেস আইডিয়া এসেছে কিংবা কোনো কাজ অন্যদের আগে সেরে ফেলেছেন? তখন সহকর্মীদের অপেক্ষা না করে চেষ্টা করুন সবার আগে নিজেকে উপস্থাপন করার। এতে বস আপনার দক্ষতার বিষয়টি বিশেষভাবে লক্ষ করবেন এবং আপনাকে পছন্দ করবেন।

বেসিক ব্যাপারটায় খেয়াল রাখুন বসের সঙ্গে যতই ফ্রি হোন না কেন, আপনার কাজকর্মে যেন কোনো ভুলত্রুটি না থাকে। উদ্যোমেরও যেন ঘাটতি না থাকে। শুধু বস নন, সহকর্মীদেরও আপনার কাজ নিয়ে আঙুল তোলার সুযোগ দেবেন না। সুযোগ পেলেই বসের সঙ্গে আলোচনা করুন কীভাবে আরও ভালো কাজ করা যায় তা নিয়ে।

অফিসের বসের সঙ্গে সব সময় ভদ্র আচরণ করার চেষ্টা করুন। কারণ অভদ্র কিংবা অবাধ্য কর্মীকে বস পছন্দ করেন না। বস কোনো কাজের আদেশ দিলে সেটা সম্ভব হলে করার চেষ্টা করুন। আর যদি আপনার কোনো অসুবিধা থাকে সেটা সুন্দর করে বুঝিয়ে বলুন। উচ্চৈস্বরে কিংবা অভদ্রভাবে কিছু বলা থেকে বিরত থাকুন। যদি আপনার বস আপনাকে অনেক অত্যাচার করেন কিংবা অহেতুক কাজ চাপিয়ে দেন। এমন হলে, যতই মেজাজ খারাপ হোক, কখনই সেটা সবার সামনে প্রকাশ করবেন না। বসের সঙ্গে চেষ্টা করুন সব পরিস্থিতিতে ইতিবাচক ও মিষ্টি ব্যবহার করার। এতে আপনার বস আপনাকে অবশ্যই পছন্দ করবেন।

ক্যারিয়ার নিয়ে আপনি কতটা সিরিয়াস সেটা বসের সামনে বিভিন্নভাবে প্রকাশ করুন। কর্মজীবনে উন্নতি সাধন যে আপনার লক্ষ্য, তার ব্যাপারে আলোচনা করুন। ভবিষ্যতে কোন পদে কাজ কতে চান সেই ইচ্ছের কথা বলুন। তার অধীনে কাজ করে আপনি যে স্কিল অর্জন করেছেন, তা জানান তাকে। এ অভিজ্ঞতা আপনি পরবর্তীকালে কীভাবে কাজে লাগিয়ে নিজেকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন তা নিয়ে আলোচনা করুন। বসের পরামর্শে বাড়তে পারে আপনার কনফিডেন্স। এমনকি তার নেটওয়ার্ক কাজে লাগিয়ে আপনি পেতে পারেন গোল্ডেন অপরচুনিটি।

ক্লায়েন্ট মেইল ও ইন্টারনাল মেইল, যিনি খুব ভালো মেইল লিখতে পারেন, বসরা তাদের খুবই পছন্দ করেন। তাই মেইল লেখার এক্সপার্ট হয়ে যান। এই দক্ষতা দেখে খুশি হয়ে গুরুত্বপূর্ণ মেইল আপনাকে লিখতে বলেন তবে বুঝবেন বসের কাছের লোকের লিস্টে আপনি উঠে গেছেন।

নিজের কাজ নিয়ে কিংবা স্যালারি নিয়ে বসের কাছে ঘ্যান ঘ্যান করে অসন্তোষ প্রকাশ করবেন না। আপনি যদি অসন্তুষ্ট হয়ে থাকেন, তাহলে তাকে মাঝে মাঝে সে কথা জানাতে পারেন। কিন্তু প্রতিদিন স্যালারি হাইকের আওয়াজ বিরক্তিকর।

অফিস পলিটিকস, কর্মীদের মধ্যে গ্রুপিং সব সময় ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। তবে এসবের মাত্রা বেড়ে গেলে অফিসের কাজের পরিবেশ নষ্ট হয়ে যায়। অফিসে কাজ করতে এসেছেন। সেটাই করুন। চেষ্টা করুন গ্রুপিং-পলিটিকসে একবার জড়িয়ে ফেললে সহজে বের হতে পারবেন না। তখন বসের নজরে আপনি ‘বিদ্রোহী’ কিংবা ষড়যন্ত্রকারী।

সর্বশেষ পরামর্শ : আপনার বস খুব বোকা, হয়তো অসম্ভব চালাক কিংবা ভয়ঙ্কর রাগি অথবা প্রচন্ড ভালো মানুষ? তিনি যেমনই হোক না কেন, সবার  ১মে তিনি আপনার কাজ দেখবেন। আপনি যদি শতভাগ উজাড় করে পারফেক্ট কাজ করতে পারেন আপনি থাকবেন তার পছন্দের তালিকায়।

টপারবিডি/বাংলা ৭৭

Check Also

দক্ষিণ আফ্রিকান পেসারদের পাল্টা জবাব দিয়েছেন ভারতীয়রা

অনলাইন ডেস্কঃ দক্ষিণ আফ্রিকার এক মাঠে পেসাররা নাভিশ্বাস তুলে দিচ্ছেন ব্যাটসম্যানদের। এমন এক বাক্যের পর …