Wednesday , November 14 2018
Home / আন্তর্জাতিক / ফের উত্তপ্ত মিয়ানমার! রোহিঙ্গা-সরকারি বাহিনী সংঘর্ষে নিহত ৮৯
মিয়ানমার রোহিঙ্গা

ফের উত্তপ্ত মিয়ানমার! রোহিঙ্গা-সরকারি বাহিনী সংঘর্ষে নিহত ৮৯

অনলাইন ডেস্কঃ নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে। বৃহস্পতিবার রাত থেকে রাখাইনের বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ চলছে। গতকাল শুক্রবার রাত পৌনে ৯টায় এ প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত প্রাণহানির সংখ্যা ছিল ৮৯। এর মধ্যে ৭৭ জন রোহিঙ্গা। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে রাখাইনের ২০ থেকে ৩০টি নিরাপত্তা চৌকিতে ‘রোহিঙ্গা বিদ্রোহীরা’ হামলা চালায় উল্লেখ করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী অভিযান শুরু করলে নতুন করে এ সহিংসতা শুরু হয় বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়।

টেকনাফের বাসিন্দারা জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাত ২টার দিকে সীমান্তের ওপার থেকে মুহুর্মুহু গুলির শব্দ ভেসে আসছিল। এরপর দলে দলে রোহিঙ্গারা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে ঢোকার চেষ্টা করে। গতকাল ভোররাতে এক হাজারের মতো রোহিঙ্গা ঢুকেও পড়েছে। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) কিছু রোহিঙ্গাকে ঢুকতে না দিয়ে তাদের দেশে ফেরত পাঠিয়েছে।   টেকনাফ-২ বিজিবি অধিনায়ক লে. কর্নেল এস এম আরিফুল ইসলাম সীমান্তে গোলাগুলির সংবাদের সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, অনুপ্রবেশকালে ১৪৬ জন রোহিঙ্গাকে আটকের পর মানবিক সহায়তা দিয়ে স্বদেশে ফেরত পাঠানো হয়। বিজিবি সিও লে. কর্নেল এস এম আরিফুল ইসলাম সন্ধ্যায় কালের কণ্ঠকে জানান, সীমান্ত অতিক্রম করে রাতে বেশ কিছু রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করতে পারে বলে বিভিন্ন মাধ্যমে শোনা যাচ্ছে।

তবে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি পোস্ট ও টহল বাড়ানো হয়েছে। সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সংস্থার সদস্যরাও। ১৪৬ রোহিঙ্গাকে তাদের দেশে পুশব্যাক করার খবরটি দিয়ে এএফপি বলেছে, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের এক কর্মকর্তা তাদের বলেছেন, ‘রোহিঙ্গারা ছিল ভীষণ আতঙ্কগ্রস্ত। তাদের ফেরত পাঠানোর সময় আমাদেরও খারাপ লাগছিল। ’

৩৪ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মনঞ্জুরুল হাসান খান বলেছেন, সীমান্তে বিজিবি অনেক বিজিপিকে প্রতিহত করেছে। তবে বিচ্ছিন্নভাবে অরক্ষিত সীমান্ত দিয়ে কিছু কিছু রোহিঙ্গা ঢুকে পড়ে কুতুপালং ও বালুখালী বস্তিতে অবস্থান নিতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা ব্যক্ত করেন। বিজিবির সূত্র জানায়, তাদের সতর্কতার কারণে ঢুকতে না পেরে সীমান্তের ওপারে অনুপ্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে কয়েক হাজারের অধিক রোহিঙ্গা।

রাখাইনের মংডু ও বুথিদাউং এলাকার বিভিন্ন গ্রামে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাত ১টার দিকে সমন্বিত এই হামলার সূচনা হয় বলে গতকাল মিয়ানমার সরকারের এক বিবৃতিতে বলা হয়। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের বরাত দিয়ে রয়টার্স বলেছে, রাখাইনে ২০১২ সালের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার পর সৌদি আরবে পালিয়ে যাওয়া রোহিঙ্গাদের গঠিত জঙ্গিগোষ্ঠী এআরএসএ (আরাকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মি) হামলার দায় স্বীকার করেছে। গ্রুপটির নেতা আতা উল্লাহ বলেছেন, শত শত তরুণ রোহিঙ্গা তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে। মানবাধিকার রক্ষায় সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ন্যায্য প্রতিরোধ তারা চালিয়ে যাবে বলছে গ্রুপটি। একটি টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে এক পোস্টে হামলার দায় স্বীকার করে বলা হয়, ‘বার্মিজ নির্যাতনকারী বাহিনী গত কয়েক দিন ধরে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নিপীড়নের মাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছিল। তাদের বিরুদ্ধে ২৫টির বেশি জায়গায় আমরা প্রতিরোধ কার্যক্রম চালিয়েছি। শিগগির আরো আসছে। ’ এ ছাড়া আরাকান রাজ্যের উগ্রপন্থী ‘হরকত আল ইয়াকিন’ নামের একটি জঙ্গি রোহিঙ্গা বিদ্রোহী গ্রুপও গত সপ্তাহে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিয়ানমার সরকারকে তাদের অত্যাচার নির্যাতন বন্ধ করতে বলেছিল। অন্যথায় হামলা হবে বলেও তারা হুমকি দেয়।

স্থানীয় সূত্র মতে, গত বৃস্পতিবার রাতের হামলার পর গুলির শব্দে বাংলাদেশ সীমান্তের টেকনাফ, উখিয়া ও নাইক্ষ্যংছড়ি এলাকার সীমান্তের বাসিন্দারাও ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে। সীমান্তে ছড়িয়ে পড়ে উত্তেজনা। কঠোর সীমান্ত পাহারার মধ্যেই বৃহস্পতিবার ভোররাতের দিকে কমপক্ষে সহস্রাধিক রোহিঙ্গা নাফ নদ পাড়ি দিয়ে ঢুকে যায় বাংলাদেশে।

টপারবিডি/বাংলা ৭৭

আরও পড়ুন

চীনা সেনাবাহিনীকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতির নির্দেশ

অনলাইন ডেস্কঃ সর্বদা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকতে ও মৃত্যুকে ভয় না পেতে সেনাবাহিনীর প্রতি আহ্বান …