Sunday , November 18 2018
Home / খেলাধুলা / আরেকটি দিনশেষে ৮৮ রানের লিড পেল বাংলাদেশ

আরেকটি দিনশেষে ৮৮ রানের লিড পেল বাংলাদেশ

অনলাইন ডেস্কঃ বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের রেকর্ড গড়া দিনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঢাকা টেস্টে ৯ উইকেট হাতে নিয়ে ৮৮ রানে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয় দিনে খেলা শেষ করেছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। সাকিবের ৫ উইকেট শিকারে প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে ২১৭ রানেই অলআউট কওে দেয় বাংলাদেশ। ফলে প্রথম ইনিংস থেকে ৪৩ রানের লিড পায় টাইগাররা। এরপর নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ১ উইকেটে ৪৫ রান করে দিন শেষ করে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে ২৬০ রান করেছিলো মুশফিকুর রহিমের দল।

প্রথম দিন শেষ বিকেলে বাংলাদেশ অলআউট হয়ে যাওয়ায় ম্যাচের উদ্বোধনী দিনই ৯ ওভার ব্যাট করার সুযোগ পায় অস্ট্রেলিয়া। প্রথম দিন শেষে ৩ উইকেট ১৮ রান করেছিলো অসিরা। ওপেনার ম্যাট রেনশ ৬ ও অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ ৩ রানে অপরাজিত ছিলেন। আজ দিনের ১৮তম বলেই স্মিথকে প্যাভিলিয়নে ফেরত পাঠান বাংলাদেশের ডান-হাতি অফ-স্পিনার মেহেদি হাসান মিরাজ। ৮ রানে থাকা স্মিথের উইকেট উপড়ে ফেলেন মিরাজ।

দলীয় ৩৩ রানে স্মিথ ফিরে যাবার পর পঞ্চম উইকেটে ৬৯ রানের জুটি গড়েন রেনশ ও পিটার হ্যান্ডসকম্ব। বাংলাদেশের বিপক্ষে পঞ্চম উইকেটে অস্ট্রেলিয়ার এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জুটি । এই জুটিকে বড় হতে দেননি বাংলাদেশের বাঁ-হাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম। লেগ বিফোর ফাঁেদ পড়ে ৩৩ রানেই বিদায় নেন হ্যান্ডসকম্ব।
হ্যান্ডসকম্বকে তুলে নিয়ে আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠে বাংলাদেশের বোলাররা। তাই মধ্যাহ্ন বিরতির আগে ষষ্ঠ উইকেট শিকারের সাফল্য পায় বাংলাদেশ। এবার বাংলাদেশকে সাফল্যের মুখ দেখান সাকিব আল হাসান। ৯৪ বলে ৪৫ রান করেন ফিরেন রেনশ। এতে ৬ উইকেটে ১১৭ রানে পরিণত হয় অস্ট্রেলিয়া।

মধ্যাহ্ন বিরতির পর অস্ট্রেলিয়াকে খেলায় ফেরানোর পরিকল্পনা কষছিলেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ও উইকেটরক্ষক ম্যাথু ওয়েড। কিন্তু সেটি হতে দেননি মিরাজ। সেশনের ষষ্ঠ বলেই ওয়েডের বিদায় নিশ্চিত করেন মিরাজ। অবশ্য আম্পায়ারের দেয়া লেগ বিফোর সিদ্বান্তটি ভুল ছিলো। টিভি রিপ্লেতে তা ফুঁটে উঠে। রিভিউ থাকা সত্ত্বে তা না নিয়ে মস্তবড় ভুলই করেন ওয়েড। তার ভুলে আরও চাপে পড়ে যায় অস্ট্রেলিয়া।

সেই চাপ আরও বাড়ে ম্যাক্সওয়েলের ভুল শট নির্বাচনে। ইনিংসের ৪৪তম ওভারের প্রথম বলে উইকেট ছেড়ে সাকিবকে খেলতে গিয়েছিলেন ম্যাক্সওয়েল। কিন্তু সাকিবের ঘুর্ণি ডেলিভারিটি ম্যাক্সওয়েলের ব্যাটকে ফাঁকি দিয়ে উইকেটের পেছনে থাকা অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের গ্লভসে জমা পড়েন। তালুতে বল নিয়ে স্টাম্প ভেঙ্গে ফেলেন মুশি। তাই ২৩ রানেই থেমে যেতে হয় ম্যাক্সওয়েলকে।

দলীয় ১৪৪ রানে ম্যাক্সওয়েলের আউটের পর জুটি বাধেন অ্যাস্টন আগার ও প্যাট কামিন্স। দু’জন জুটিতে ৪৯ রান যোগ করেন। বাংলাদেশের বিপক্ষে নবম উইকেটে অস্ট্রেলিয়ার এটি সর্বোচ্চ রান। অবশ্য দলীয় ১৬৬ রানে সাকিবের বলে কামিন্সের ক্যাচ শফিউল না ফেললে, এই জুটি রেকর্ড গড়তে পারতো না।

শেষ পর্যন্ত সাকিবের বলেই ইনিংস থেমেছে কামিন্সের। তখন তার নামের পাশে ২৫ রান। অস্ট্রেলিয়ার শেষ ব্যাটসম্যান জশ হ্যাজেলউডকেও শিকার করেছেন সাকিব। তাই ২১৭ রানেই গুটিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংস। ৬৮ রানে ৫ উইকেট নেন সাকিব। ক্যারিয়ারে ১৬তম বারের মত ৫ বা ততোধিক উইকেট নিলেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই প্রথম। ফলে বিশ্বের চতুর্থ বোলার হিসেবে সকল টেস্ট খেলুড়ে দেশের বিপক্ষে ৫ বা ততোধিক উইকেট নেয়ার কীর্তি গড়লেন সাকিব। অস্ট্রেলিয়ার অ্যাস্টন আগার ৪১ রানে অপরাজিত ছিলেন। সাকিব ছাড়াও বাংলাদেশের মিরাজ ৩টি ও তাইজুল ১টি উইকেট নেন।

বোলারদের কল্যাণে প্রথম ইনিংস থেকে ৪৩ রানে লিড পেয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ১ উইকেটে ৪৫ রান করেছে বাংলাদেশ। ১৫ রান করে বাঁ-হাতি ওপেনার সৌম্য সরকার ফিরে গেলেও, আরেক ওপেনার তামিম ইকবাল ৩০ ও নাইটওয়াচম্যান তাইজুল ইসলাম শূন্য রানে অপরাজিত থেকে দিন শেষ করেছেন।

টপারবিডি/বাংলা ৭৭

আরও পড়ুন

তামিমের অনন্য অর্জন একই দিনে দুটি রেকর্ড!!

অনলাইন ডেস্কঃ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে রেকর্ডের বরপুত্র বলা হতো ক্যারিবিয়ান গ্রেট ব্রায়ান লারাকে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই …