Wednesday , November 14 2018
Home / লাইফ স্টাইল / ঈদ রাঙাতে মেহেদি সাজ,মেহেদির রঙ গাঢ় রাখার কিছু টিপস জেনে নিন

ঈদ রাঙাতে মেহেদি সাজ,মেহেদির রঙ গাঢ় রাখার কিছু টিপস জেনে নিন

অনলাইন ডেস্কঃ ঈদের কেনাকাটা প্রায় শেষ। এবার মেহেদির রঙে নিজেকে রাঙানোর পালা। মেহেদির লাল রং ঈদের আনন্দই শুধু বাড়িয়ে দেয় না, একইসঙ্গে ঈদ সাজেও পূর্ণতা আনে। আগেকার দিনে বাড়ির মেহেদি গাছের পাতা বেঁটে কাঠি দিয়ে হাতে নকশা করা হতো। বাটা মেহেদি দিয়ে গোলসহ নানা রকম স্থানীয় নকশায় হাত রাঙাত তরুণীরা। কিন্তু সময় বদলেছে। এখন বাজারেই টিউব মেহেদি ও নকশা বই পাওয়া যায়। আবার সময়ের সঙ্গে মেহেদির নকশা এবং ধরনেও এসেছে পরিবর্তন। তাই নানা বৈচিত্র্যময় নকশায় হাত রাঙানো আজ আর কঠিন ব্যাপার নয়।

ছোট থেকে বড় সব বয়সের মেয়েদের কাছে কদর রয়েছেন নতুন পোশাকের সঙ্গে হাতে নকশা করা মেহেদি ছোঁয়ার। কেউ কেউ বাসায় বসেই হাতে নকশা আঁকেন। আবার কেউবা হাতে মেহেদি লাগাতে চলে যান পার্লারে। তবে যেখানেই মেহেদি লাগান না কেন কম সময়ে দারুণ নকশা ফুটে উঠবে আপনার হাতে।

♦ছোট ছোট অঙ্কনে হালকা নকশা চলবে। আবার হাতের এক কোণ থেকে শুরু করে নকশা করতে পারেন আঙুল পর্যন্ত। তবে হালকা নকশা সব ধরনের পোশাকের সঙ্গে কিন্তু মানিয়ে যায়। এক্ষেত্রে ছোটদের জন্য হালকা নকশা বেশ মানানসই। চাইলে আপনি দুই হাত ভরে ঘন নকশায় হাত রাঙাতে পারেন। সেক্ষেত্রে তিন ধরনের অঙ্কন রয়েছে। ময়ূর, কলকা এবং ফুলেল নকশা।

♦ঘন নকশার সঙ্গে নখের চার পাশে গোল নকশায় মেহেদি লাগাতে পারেন। ঘন নকশা বদলে আপনি ছোট ছোট অঙ্কনে, একই প্যাটার্নে পুরো হাতে মেহেদি লাগাতে পারেন। মাঝারি ধরনের এই নকশা বেশ মানাবে নতুন পোশাকের সঙ্গে। অনেকে নখে গাঢ় রঙের নেইল পলিশ ব্যবহার করেন। এক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে, নেইল পলিশের রং যেন মেহেদির নকশাকে ছাপিয়ে না যায়।

হাতের পাশাপাশি অনেকে পায়ে মেহেদি লাগাতে পছন্দ করেন। লতা, ফুল এবং অর্ধবৃত্তাকার নকশায় পা রাঙাতে পারেন।

মনে রাখবেন, বাজারের টিউব মেহেদিগুলো ব্যবহারে অল্প সময়ে গাঢ় রং হলে তা অল্প দিনেই ফিকে হয়ে যায়। মেহেদি দেওয়ার পর আমরা এমন কিছু কাজ করে ফেলি যার জন্য মেহেদির রং ফিকে হয়ে যায়।

⇒মেহেদির রং অনেকদিন পর্যন্ত গাঢ় রাখার কিছু পদ্ধতি জেনে রাখুনঃ

♥ মেহেদি দেওয়ার পর অনেকে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে থাকেন। এটা ঠিক নয়। কেননা সাবানের ক্ষারীয় উপাদান মেহেদির রং ফিকে করে দেয়।

♥ মেহেদি দেওয়ার কিছুক্ষণ পরই হাত ধুয়ে ফেলবেন না। কমপক্ষে ৬ ঘণ্টা মেহেদি হাতে রাখার চেষ্টা করুন। সম্ভব হলে রাতে মেহেদি দিয়ে পরের দিন সকালে তা তুলে ফেলুন। গোসলের কাজটা মেহেদি দেওয়ার পূর্বে শেষ করে ফেলুন। মনে রাখবেন, মেহেদি যত বেশি সময় হাতে রাখবেন তত বেশি গাঢ় রং হবে।

♥ চিনি, লেবুর পানি মেহেদির রং কে গাঢ় করে থাকে। কিন্তু খুব বেশি ব্যবহারে মেহেদি খয়েরি রং হয়ে যায়। যা দেখতে একদমই ভালো না।

♥মেহেদি শুকানোর জন্য কখনই হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার করবেন না। এতে আপনার ডিজাইন নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে প্রয়োজনে মেহেদি শুকানোর জন্য ফ্যান ব্যবহার করতে পারেন।

♥ মেহেদি দেওয়ার আগে খুব বেশি পানি বা পানি জাতীয় খাবার খাবেন না।

♥ হালকা বা আবছা আলোর মধ্যে মেহেদি দিবেন না। ভালো মেহেদি ডিজাইনের জন্য পর্যাপ্ত আলোর প্রয়োজন।

♥লেবুতে যাদের এলার্জি তারা অনেক সময় সরিষার তেল ব্যবহার করে থাকেন মেহেদি রং গাঢ় করার জন্য। তেল ব্যবহারে হাতের শুষ্কতা অনেকটাই কমে যায়। তবে তেল ব্যবহারের আগে এর মান সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে নিন।

♥ অনেকে মেহেদি তেল ব্যবহার করেন। মেহেদি তেল কেনার পূর্বে এর মেয়াদ এবং তৈরির উপাদান দেখে নিন। এটি মেহেদি লাগানোর আগে ব্যবহার করতে হয়। কখনোই মেহেদির লাগানোর পর এই তেল ব্যবহার করবেন না। এতে রং ঠিক থাকবে।

◊সতর্কতাঃ

মেহেদিতে অনেকের অ্যালার্জির সমস্যা থাকে। ফলে র‌্যাশসহ নানা উপদ্রব দেখা দেয়। তাই ব্যবহারের আগেই সচেতন হোন। বিশেষ করে শিশুদের হাতে মেহেদি লাগাতে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করুন। মেহেদি লাগানোর আগে হাতে পায়ে ল্যাকটো ক্যালামাইন ব্র্যান্ডের লোশন ব্যবহার করুন। ত্বকের সমস্যা এড়াতে ভালো মানের টিউবি মেহেদি ব্যবহার করুন, বিপদমুক্ত থাকুন।

টপারবিডি/বাংলা ৭৭ম

 

আরও পড়ুন

ব্রেক আপের পর যে পাঁচ শারীরিক সমস্যায় অনেকেই ভোগেন

অনলাইন ডেস্কঃ মানুষ বাঁচে আশায় আর হৃদয় বাঁচে ভালবাসায়। হৃদয়কে ভাল রাখতে তাই মানুষ ছুটে …