Sunday , November 18 2018
Home / জাতীয় / রোহিঙ্গাদের নজীরবিহীন ঢলে সরকারের উদ্বেগ

রোহিঙ্গাদের নজীরবিহীন ঢলে সরকারের উদ্বেগ

অনলাইন ডেস্কঃ রাখাইন রাজ্যের সহিংসতায় সীমান্ত অভিমুখে রোহিঙ্গাদের নজীরবিহীন ঢলে উদ্বিগ্ন সরকার মিয়ানমারের কাছে প্রতিবাদ জানিয়েছে।

সরকারের মতে, রাখাইন রাজ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ বারবার ভিকটম হচ্ছে। বিপুল সংখ্যক উদ্বাস্তুদের ভার বহনের ক্ষমতা বাংলাদেশের নেই। এ কারণে রোহিঙ্গা সমস্যার মূল উৎস সমাধানের জন্য মিয়ানমারের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ।

ঢাকায় মিয়ানমারের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত অং মিন্টকে আজ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করে সরকারের এ মনোভাব জানানো হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া) মঞ্জুরুল করিম খান চৌধুরী রাষ্ট্রদূতের হাতে প্রতিবাদ পত্র তুলে দেন। গত এক সপ্তাহে বিভিন্ন ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে মিয়ানমারের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতকে এ পর্যন্ত চারবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়েছে। ঈদুল আজহার দিনেও তাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ডাকা হয়েছে।

প্রতিবাদপত্রে বলা হয়েছে, রাখাইন রাজ্যে সামরিক অভিযানের সময় বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত না করায় বাংলাদেশ উষ্মা প্রকাশ করছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। বেসামরিক জনগণের ওপর এ অভিযানের নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে বাংলাদেশ উদ্বিগ্ন।

এতে বলা হয়েছে, রাখাইন রাজ্যের মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে অসংখ্য মানুষ হতাহত, বাড়ি-ঘরে অগ্নিসংযোগ, জনগণের দুর্ভোগ , নির্বিচার শক্তি প্রয়োগ, মানবাধিকারের ব্যাপক লঙ্ঘনের খবরে বাংলাদেশ খুবই উদ্বিগ্ন। নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান পরিচালনাকালে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের বাধ্যবাধকতা মেনে চলার জন্য মিয়ানমারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে।

প্রতিবাদে বলা হয়েছে, রাখাইন রাজ্যে সহিংসতা থেকে প্রাণ নিয়ে বাঁচতে সীমান্ত অভিমুখে রোহিঙ্গাদের নজীরবিহীন ঢল নেমেছে। জাতিসঙ্ঘের সংস্থাগুলোর হিসাব মতে, গত ২৫ আগস্টের পর থেকে এক লাখ ২৫ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। আরো হাজার হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশ অভিমুখে রয়েছে। রোহিঙ্গাদের ভারে আগে থেকে জর্জরিত থাকায় উদ্বাস্তুদের নতুন এই ঢল সামাল দেয়া বাংলাদেশের জন্য কঠিন হয়ে পড়ছে। রাখাইনে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ও নিরাপত্তা অভিযানের কারণে বাংলাদেশে আগে থেকেই চার লাখের বেশি রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়ে আছে। রাখাইন রাজ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ বারবার ভিকটম হচ্ছে। বাংলাদেশ উত্তর রাখাইনে সহিংসতা অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানিয়েছে। একইসাথে সীমান্ত অভিমুখে রোহিঙ্গাদের অব্যাহত ঢল বন্ধে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ। রোহিঙ্গা সমস্যার মূল উৎস সমাধানের জন্য মিয়ানমারের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ।

পত্রে ধর্ম-গোত্র নির্বিশেষে রাখাইন রাজ্যের সব মানুষকে সুরক্ষা দেয়ার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ, যাতে মিয়ানমার নাগরিকদের ভিন্ন দেশে আশ্রয় নিতে না হয়। সংঘাতপূর্ণ এলাকায় মানবিক সহায়তার স্বল্পতায় বাংলাদেশ উদ্বিগ্ন। এটি পরিস্থিতিকে আরো অবনতির দিকে ঠেলে দেবে, যার পরিণতিতে মিয়ানমারের বেসামরিক জনগণ বাংলাদেশে আরো বেশি সংখ্যায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হবে। এর কারণে রাখাইনের সব অঞ্চলে কোনো রকম বৈষম্য ছাড়া মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেয়ার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া সব মিয়ানমার নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে রাষ্ট্রদূতের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সুপ্রতিবেশী হিসাবে সরকার আশা করে, মিয়ানমারের কোনো ঘটনার নেতিবাচক প্রভাব যাতে বাংলাদেশের ওপর পড়বে না।

টপারবিডি/বাংলা ৭৭ম

আরও পড়ুন

আগামী নির্বাচনে মহাজোটের সঙ্গে থাকবো কিনা সেটা পরিস্থিতিই বলে দেবে

টপারবিডি ডেস্কঃ প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত ও জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ বলেছেন, আগামী নির্বাচনে …