Saturday , December 15 2018
Home / অন্যান্য / কেন মানুষ বাম হাতি হয়!বাম হাতি হলে কী হয়?

কেন মানুষ বাম হাতি হয়!বাম হাতি হলে কী হয়?

অনলাইন ডেস্কঃ মানুষ কেন বামহাতি হয় এটা জানার আগে একটা পরিসংখ্যানের কথা শুনি।আর সেটা হল বিগত ৭ জন মার্কিন প্রেসিডেন্ট এর ৪ জনই  ছিলেন বামহাতি।কি অবাক হলেন?হ্যাঁ এটাই সত্যি।এরা হলঃ- জেরাল্ড ফোর্ড,বুশ,ক্লিনটন ও বারাক ওবামা।এবার আসি তাদের আনুপাতিক সংখায়।শতকরা নব্বই জন লোক ডানহাতি এবং ১০ জন লোক বামহাতি।এটা শুনে আরও অবাক হবেন যে এই আনুপাতিক হার মোটামুটি ভাবে স্থির রয়েছে সেই আদিম কাল থেকেই।আদিমকালের মানুষ গুহাচিত্র অঙ্কন করত,আর সেই যুগের মানুষ কোন হাতে বর্শা ধরত তা দেখে ও প্রত্নতাত্ত্বিক জিনিসপত্রের বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা এই সিদ্ধান্তে উপনিত হয়েছেন।

যাই হোক,এবার আসি কেন মানুষ বামহাতি হয় সে প্রসঙ্গে।এই বামহাতি হওয়া ব্যাপারটা আসলে পারিবারিক বা বংশগত।আর বংশগত হওয়া মানেই এটির সাথে আমাদের জিনের সম্পর্ক রয়েছে।২০১৩ সালে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক LRRTM- 1 নামক একটি জিন সনাক্ত করেন।গঠন বিকারগ্রস্ত একটি শিশুর শরীর পরীক্ষা করার সময় তারা এটি খুজে পান।পরে দেখা যায় বামহাতি হবার পেছনে এই বিশেষ জিনটির যথেষ্ট অবদান রয়েছে।তারা আরও জানানঃ- “নিউরনগুলোর পারস্পারিক যোগাযোগের সাথেও এই জিনটির সম্পর্ক আছে।”তবে বিজ্ঞানীরা আরও একটি কারন ও খুজে পান।তা হল,যে মানুষের মস্তিস্ক বেশী অসামঞ্জস্যপূর্ণ তাদের বামহাতি হবার সম্ভবনা অনেক বেশী।এখানে বলে রাখা ভাল আমাদের সবার মধ্যেই এই অসামঞ্জস্যতা রয়েছে।তবে বামহাতিদের মধ্যে এটা অনেক বেশী।যাই হোক এ ব্যাপারে আরও ভাল জানতে হলে এ বিষয়ে আরও ভাল গবেষণা হওয়া দরকার।

আরো কিছু তথ্য, যা হয়তো আপনি জানেন না:

১.  গবেষণায় দেখা গেছে, বাঁ-হাতিদের ডান পাশের মস্তিস্ক বেশি ব্যবহৃত হয়। এজন্যই সাধারণত বাঁ-হাতিরা বেশি উদ্ভাবনী ক্ষমতাসম্পন্ন হয়ে থাকে। ক্রিস এমসি ম্যামস ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন থেকে প্রকাশিত ডানহাতি ও বামহাতিদের ওপর লেখা একটি বইতে উল্লেখ করা আছে, বাঁ-হাতিদের জীবনের সাফল্য, প্রাপ্তি বা কৃতিত্বপূর্ণ কাজ, ডানহাতিদের তুলনায় ঈর্ষণীয়। বলা হয়ে থাকে, তাঁদের আইকিউ বেশি এবং সংগীত ও গণিতে তাঁদের পারদর্শিতা ডানহাতিদের চেয়ে ভালো।

২. ক্রীড়াজগতে ক্রিকেট, টেবিল টেনিস, ব্যাডমিন্টন, টেনিস, বেসবল খেলায় বাঁ-হাতিরা বেশ সুবিধা আদায় করে নিতে পারে।

৩. ইউরোপ ও আমেরিকা মহাদেশের সফল রাজনীতিবিদদের অনেকেই বাঁ-হাতি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্এদর মধ্যে চারজন বাঁহাতি ছিলেন। বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাও বাঁ-হাতি।

৪. নির্দিষ্ট সময়ের আগে জন্মগ্রহণকারী বেশির ভাগ শিশুই বাঁ-হাতি হয়। গর্ভাবস্থায় এবং প্রসবের সময় সন্তানের অবস্থান এবং প্রিম্যাচিউর (অর্থাৎ ২৪ সপ্তাহের আগে এবং জন্মগত ওজন ১.৫ কেজির কম হলে) হলে বামহাতি হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

৫. ১৯৮৯ এবং ১৯৯১ সালে প্রকাশিত দুটি বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধে বলা হয়েছিল, বাঁ-হাতিদের জীবনকাল ডানহাতিদের চেয়ে কম হয়। কিন্তু সম্প্রতি এক গবেষণায় ক্যালিফোর্নিয়ার গবেষকরা এই কথাটি নাকচ করে দিয়েছেন।

৬. বিশ্বে বেশির ভাগ যন্ত্র এবং সরঞ্জাম ডান হাতিদের উপযোগী করে বানানো। এ জন্য প্রতিবছর বিশ্বে দুই হাজারের বেশি বাঁ-হাতি বিভিন্ন দুর্ঘটনার শিকার হন।

৭. মা-বাবা দুজন বাঁ-হাতি হলে সন্তানদের শুধু শতকরা ২৬ জন বাঁ-হাতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

৮. ডান হাতিদের তুলনায় বাঁ-হাতিদের এলার্জি এবং মাথাব্যথার (মাইগ্রেন) সমস্যা বেশি হয়। এ ছাড়া বাঁ-হাতিরা অনিদ্রা ও তোতলামির সমস্যায়ও ভোগেন।

৯. ২০০৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের লাফায়েত কলেজ এবং জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা দেখিয়েছেন, বাঁ-হাতি মানুষরা ডানহাতিদের চেয়ে ১০-১৫% বেশি উপার্জন করেন।

টপারবিডি/বাংলা ৭৭ ম ম

আরও পড়ুন

সেলফি তুলতে গিয়ে চারজন ছাত্রের মৃত্যু, সেলফি যেন ‘কিলফি’

অনলাইন ডেস্কঃ সেপ্টেম্বর মাসে ২০-২৫ জন কলেজ ছাত্র বেঙ্গালুরু শহরের ৩০ কিলোমিটার দূরের রামাগোন্ডলুতে একটি …