Tuesday , October 26 2021
Home / স্বাস্থ্য / স্ট্রোক থেকে বাঁচার উপায়ে দৈনন্দিন জীবনে বদল আনুন

স্ট্রোক থেকে বাঁচার উপায়ে দৈনন্দিন জীবনে বদল আনুন

হৃদরোগ ও স্ট্রোকের সমস্যা কিন্তু এক নয়। মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত হলে স্ট্রোক হয়।
এটি হওয়া মানেই নিশ্চিত মৃত্যু এমনটা নয়। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মৃত্যুর ঝুঁকি থেকে যায়। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না হলে মৃত্যু হতে পারে। কিছু সমস্যা রয়েছে যা আমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকে না। তাই হাজার চেষ্টা সত্ত্বেও সেই ঝুঁকি আমরা কমাতে পারি না। আবার কিছু সমস্যার সমাধান আমাদের হাতের মুঠোয় রয়েছে। প্রতিদিনের জীবনযাত্রায় কিছু বদল আনলেই স্ট্রোকের হাত থেকে সহজেই মুক্তি মিলতে পারে।

১. নিয়মিত শরীরচর্চা
প্রতিদিন নিয়ম করে শরীর চার্চা করুন। জগিং, স্কিপিং, হাঁটা হোকা বা যোগাসন যেটাই আপনার পছন্দ সপ্তাহে প্রতিদিন অথবা অন্তত পাঁচ দিন আধঘণ্টা করে করুন।এতে রক্তচলাচল স্বাভাবিক থাকে। এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেকটাই কমে।

২. ধূমপান ত্যাগ করুন
ধূমপান ধীরে ধীরে ফুসফুসকে নষ্ট করে দেয়। ধূমপানের জেরে উচ্চ রক্তচাপের সমস্যাও হতে পারে, যা স্ট্রোকের ঝুঁকিকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। তাই পারলে ধূমপান এড়িয়ে চলুন অথবা একান্তই না পারলে তা কমিয়ে আনার চেষ্টা করুন।

৩. কোলেস্টেরল কমান
ক্ষতিকর কোলেস্টরল রয়েছে এমন খাবার আপনার স্বাস্থ্যের শত্রু। কী খাচ্ছেন তা নিয়ে ওয়াকিবহাল থাকুন। কোন খাবার আপনার শরীরের উপযোগী তা বিশদে জানুন। রক্তে কোলেস্টরল, শর্করার পরিমাণ পরীক্ষা করান নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে। প্রতিদিন ফল, সবজি ও মাছ বেশি করে খেলে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে থাকবে। স্ট্রোকের সম্ভাবনাও কমে যাবে।

৪. লবণ কম খান
উচ্চ রক্তচাপ স্ট্রোকের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। আর লবণ খেলে রক্তচাপ বাড়তেই থাকে যা স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। তাই দৈনিক ৫ গ্রামের বেশি লবণ  খাবেন না। লবণ বেশি রয়েছে এমন খাবার যেমন রাস্তার খাবার, মশলাযুক্ত চাট, সস, স্যুপ ইত্যাদিতে প্রচুর লবণ থাকে যা নিয়মিত হারে খাওয়া মানে স্ট্রোককে নিমন্ত্রণ করা।

৫. সামাজিকতা বাড়ান
সামাজিক মেলামেশা বাড়ালে মন ভালো থাকে। তা হার্টের জন্য যেমন ভালো তেমনি এতে রক্তচাপও নিয়ন্ত্রণে থাকে। একাকীত্ব স্ট্রোকের ঝুঁকি ৩২ শতাংশ হারে বাড়িয়ে তোলে, এবং হৃদরোগের ঝুঁকি ২৯ শতাংশ বৃদ্ধি করে। ফলে সামাজিক জীবন যত ভালো হবে ততই স্ট্রোকের মতো মারণ রোগ আপনার থেকে দূরে থাকবে।

এছাড়াও আরো কাজ রয়েছে এ ব্যাপারে সাবধান হওয়ার জন্য।

১. দিনে অন্তত ২০ মিনিট হাঁটুন
একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত ২০ মিনিট হাঁটার অভ্যাস করলে স্ট্রোকের আশঙ্কা প্রায় ৩০ শতাংশ কমে যায়। আর যদি জোরে হাঁটতে পারেন, তাহলে তো কথাই নেই। কারণ সেক্ষেত্রে মস্তিষ্কের ভেতরে কোনও অঘটন ঘটার সম্ভাবনা প্রায় ৪০ শতাংশ কমে যায় বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। আসলে হাঁটার সময় আমাদের সারা শরীরে রক্তের প্রবাহে উন্নতি ঘটে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রতিটি অঙ্গের কর্মক্ষমতা যেমন বৃদ্ধি পায়, তেমনি স্ট্রোকের আশঙ্কাও কমে।

২. মানসিক অবসাদ থেকে সাবধান
সম্প্রতি প্রায় ৮০ হাজার মানুষের উপর হওয়া একটা গবেষণায় দেখা গেছে মানসিক অবসাদের সঙ্গে স্ট্রোকের সরাসরি যোগ রয়েছে। আসলে এমনটা দেখা গেছে যারা ডিপ্রেশনে আক্রান্ত হন, তাদের নানা কারণে উচ্চ রক্তচাপ এবং ডায়াবেটিসের মতো রোগে হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। আর এই দুটি রোগ কোনও না কোনও সময় স্ট্রেককে ডেকে আনে। তাই যখনই বুঝবেন মনটা হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে, তখনই চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করবেন। প্রয়োজনে সাইকিয়াট্রিস্টের সাহায্য নিতে ভুলবেন না যেন!

৩. সাত ঘন্টার ঘুম খুবই জরুরি
হাওয়ার্ড ইউনিভার্সিটির করা এক গবেষণায় দেখা গেছে যারা সাত ঘন্টার কম সময় ঘুমাতে অভ্যস্ত তাদের স্ট্রোক হওয়ার আশঙ্কা সাধারণ মানুষদের তুলনায় প্রায় ৬৩ শতাংশ বেশি থাকে। আসলে পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুম না হলে ব্রেন আরাম করার সুযোগ পায় না। ফলে স্বাভাবিকভাবেই মস্তিষ্কের ভেতরে গোলযোগ হতে শুরু করে, যা ব্রেন স্ট্রোকের পথকে প্রশস্ত করে।

৪. মাইগ্রেন থেকে সাবধান
একেবারে ঠিক শুনেছেন! মাইগ্রেনের মতো মাথা যন্ত্রণার সঙ্গেও স্ট্রোকের যোগ রয়েছে। কেমন সেই যোগ? বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে মাইগ্রেন পেইনের সময় যদি চোখের সামনে আলোর বিচ্ছুরণ বা কালো কালো স্পটের মতো দেখা যায়, তাহলে বেশি সাবধান হতে হবে। কারণ এমন ধরণের লক্ষণ দেখা গেলে স্ট্রোকের আশঙ্কা থাকে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

. রাগ কমান
কথায় কথায় যারা খুব রেগে যান, তাদের ব্রেন স্ট্রোক হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। তাই আপনি যদি গরম মস্তিষ্কের হন, তাহলে সাবধান হওয়ার সময় এসে গেছে বন্ধু। কারণ এখনই যদি নিজের রাগের উপর লাগাম পরাতে না পারেন, তাহলে কিন্তু বেজায় বিপদ!

Check Also

শীতে শিশুর যত্নে কিছু ঘরোয়া উপায়

অনলাইন ডেস্কঃ তীব্র শীত চলছে। এই শীতে শুধু বৃদ্ধরাই নয় শিশুদেরও অসুস্থতার ঝুঁকি বেড়ে যায়।তাই, …