Monday , October 18 2021
Home / আজকের খবর / পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) আজ(শনিবার)

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) আজ(শনিবার)

অনলাইন ডেস্কঃ শনিবার ১২ রবিউল আউয়াল পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)। এক হাজার ৪৪৭ বছর আগে এই দিনে জন্মগ্রহণ করেন শান্তির ধর্ম ইসলামের প্রচারক, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মানব, সাইয়েদুল মুরসালিন হযরত মুহাম্মদ (সা.)। এর ৬৩ বছর পর একই তারিখে ইন্তেকাল করেন রাসূল (সা.)। বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর জন্য দিনটি একই সঙ্গে আনন্দ ও বেদনার। ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) বা সীরাতুন্নবী (সা.) হিসেবে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করেন ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা।

বিশ্ব যখন পৌত্তলিকতার অন্ধকারে ডুবে ছিল, তখন মহান আল্লাহতায়ালা মানবজাতিকে পথ দেখাতে মহানবীকে (সা.) পৃথিবীতে প্রেরণ করেন। মক্কার কুরাইশ গোত্রের সাধারণ পরিবারে জন্ম নেন তিনি। ৪০ বছর বয়সে নবুয়ত লাভ করেন। কুসংস্কার, গোড়ামি, অন্যায়, অবিচার ও দাসত্বের শৃঙ্খল ভাঙতে রাব্বুল আলামিনের পক্ষ থেকে মুক্তির বার্তা আনেন মানবজাতির জন্য। এরপর মহানবী (সা.) দীর্ঘ ২৩ বছর এই বার্তা প্রচার করে ৬৩ বছর বয়সে ইহলোক ত্যাগ করেন।

ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে সারাবিশ্বের মুসলমানদের মতো বাংলাদেশেও ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা পারিবারিক ও সামাজিকভাবে নানা অনুষ্ঠান পালন করে থাকেন। এর মধ্যে রয়েছে নফল নামাজ আদায়, কোরআনখানি ও মিলাদ মাহফিল।

ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া পৃথক বাণী দিয়েছেন। বাণীতে তারা দেশবাসীসহ মুসলিম উম্মাহর সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান। একই সঙ্গে মহানবীর (সা.) জীবনাদর্শ অনুসরণ করে ভ্রাতৃত্ববোধ ও মানবকল্যাণে ব্রতী হতে সকলের প্রতি আহ্বান জানান।

ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে শনিবার সরকারি ছুটির দিন। বন্ধ থাকবে সংবাদপত্রও। দেশের সব সরকারি-বেসরকারি টেলিভিশন ও রেডিও চ্যানেল দিনটিতে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবীর (সা.) গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করবে। এ উপলক্ষে সংবাদপত্রগুলো বিশেষ নিবন্ধ প্রকাশ করেছে। ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশন পক্ষকালব্যাপী অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করেছে।

যথাযথভাবে দিবসটি পালনের লক্ষ্যে নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। জাতীয় পতাকা ও ‘কালিমা তাইয়েবা’ লিখিত ব্যানার ঢাকা মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ ট্রাফিক আইল্যান্ড ও লাইটপোস্টে প্রদর্শন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিশু একাডেমি শিশুদের জন্য বিশেষ অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করেছে। দেশের সব হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশু সদন, বৃদ্ধনিবাস ও মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে উন্নতমানের খাবার পরিবেশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ছাড়া বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনগুলো যথাযথভাবে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালন করবে।

ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে পালনে বিভিন্ন ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল এবং সামাজিক, ধর্মীয় সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে আলোচনা সভা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল ইত্যাদি। সারাদেশে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

ঈদে মিলাদুন্নবীর গুরুত্ব ও তাৎপর্য :ঈদ, মিলাদ আর নবী তিনটি শব্দ যোগে দিবসটির নামকরণ হয়েছে। ঈদ অর্থ আনন্দোৎসব, মিলাদ অর্থ জন্মদিন আর নবী অর্থ ঐশী বার্তাবাহক। তাহলে ঈদে মিলাদুন্নবীর অর্থ দাঁড়ায় নবীর জন্মদিনের আনন্দোৎসব। ১২ রবিউল আউওয়াল একই সাথে মহানবীর জন্ম ও মৃত্যু দিবস হলেও তা শুধু জন্মোৎসব হিসেবেই পালিত হয়। পৃথিবীর যেকোনো মানুষের মৃত্যুই তার পরিবার, সমাজ ও দেশের জন্য বিরাট শূন্যতা সৃষ্টি করে। কিন্তু মহানবীর মৃত্যু মানবসমাজ ও সভ্যতার কোনো পর্যায়ে কোনো শূন্যতার সৃষ্টি করেনি। যদিও তাঁর মৃত্যুর চেয়ে অধিক বেদনাদায়ক কোনো বিষয় উম্মতের জন্য হতে পারে না। তিনি প্রেরিত হয়েছিলেন সমগ্র পৃথিবীর জন্য আল্লাহর রহমত হিসেবে। চল্লিশ বছর বয়সে নবুওয়াত লাভের পর দীর্ঘ ২৩ বছর হজরত মুহাম্মদ সা: কঠোর পরিশ্রম ও শত বাধাবিপত্তি মোকাবেলা করে ইসলামের সুমহান আদর্শ প্রচার করে গেছেন। তার প্রতিটি কাজ ও কথা আমাদের জন্য আদর্শ। তার দেখানো পথেই পৃথিবীতে আসতে পারে শান্তি ও মানবতার মুক্তি। এরশাদ হয়েছে, আমি আপনাকে সমগ্র বিশ্বের জন্য রহমত হিসেবে প্রেরণ করেছি। (সূরা আল-আম্বিয়া : ১০৭)

মহান আল্লাহ রাসূলুল্লাহ স:-এর আদর্শকে জীবনে ধারণ করার নির্দেশ দিয়েছেন। এরশাদ হয়েছে, ‘হে রাসূল! আপনি বলে দিন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবেসে থাক তাহলে আমাকে অনুসরণ করো, আল্লাহ তায়ালা তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের গুনাহগুলো মা করে দেবেন। আর আল্লাহ পরম মাশীল, অসীম দয়ালু। (সূরা আল-মায়িদা : ৩১) রাসূলুল্লাহ সা: চারিত্রিক শ্রেষ্ঠত্বের মাধ্যমেই একটি শ্রেষ্ঠ জাতি গঠন করেছিলেন। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রা: বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ সা: বলেছেন, নিশ্চয়ই আমি সর্বোত্তম চরিত্রের পূর্ণাঙ্গতা সাধনের জন্য প্রেরিত হয়েছি। (ইবনে মাজা) রাসূলুল্লাহ সা:-এর আদর্শ ধারণ করেই সাহাবায়ে কেরাম রা: যুগের সর্বোত্তম মানুষ হতে পেরেছিলেন। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা: বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ সা: বলেছেন, সর্বোত্তম মানুষ হলো আমার যুগের মানুষ, অতঃপর তাদের পরবর্তী যুগের মানুষ, তারপর তাদের পরবর্তী যুগের মানুষ। (সহীহ বোখারি)

এ জন্য রাসূল সা: সুন্নাতকে আমাদের জীবনে ধারণের ল্েয বেশি বেশি করে রাসূলুল্লাহ সা:-এর জীবনী পড়া উচিত। তবে শুধু রবিউল আউয়াল মাসেই রাসূল সা:-এর ভালোবাসাকে সীমিত না রেখে বছরের প্রতিটি দিনে, প্রতিণে, প্রতি মাসে মোটকথা জন্ম থেকে মৃত্যু অবধি জীবনের প্রতিটি েেত্র রাসূলুল্লাহ সা:-এর সুন্নাতের অনুসরণের মাধ্যমে তাঁর রেখে যাওয়া জীবনাদর্শকে বাস্তবায়ন করা আমাদের দায়িত্ব। আসুন আমরা সবাই এ দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে নিজেদের ইহকালীন ও পরকালীন জীবনকে সমৃদ্ধ করি।

টপারবিডি বাংলা-৭৭ম ২০১৯

Check Also

ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন জার্মানির উগ্র ডানপন্থী এবং মুসলিম বিদ্বেষী দলের নেতা

অনলাইন ডেস্কঃ জার্মানির উগ্র ডানপন্থী এবং মুসলিম বিদ্বেষী দল অলটারনেটিভ ফর ডয়েসল্যান্ড বা এএফডি’র খ্যাতনামা …