Monday , October 18 2021
Home / আজকের খবর / জেরুজালেম ইস্যুতে ট্রাম্প ও হোয়াইট হাউস একঘরে হয়ে পড়েছে

জেরুজালেম ইস্যুতে ট্রাম্প ও হোয়াইট হাউস একঘরে হয়ে পড়েছে

লেবাননের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহর মহাসচিব সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহ বলেছেন, বায়তুল মুকাদ্দাসকে (জেরুসালেম) ইহুদিবাদী ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণা করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আমেরিকা ও হোয়াইট হাউসকে সারা বিশ্ব থেকে একঘরে করে ফেলেছেন।

সোমবার লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দাহিয়েহ এলাকা থেকে জনগণের উদ্দেশে দেয়া ভাষণে হাসান নাসরুল্লাহ লেবাননের রাজধানী বৈরুতসহ বিশ্বজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ সমাবেশের কথা উল্লেখ করে এসব বিক্ষোভে অংশ নেয়ার জন্য লোকজনকে ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি যেসব দেশ ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন তাদের ভূমিকারও প্রশংসা করেন।

নাসরুল্লাহ বলেন, বায়তুল মুকাদ্দাস ইস্যুতে ট্রাম্প যে অবস্থান নিয়েছেন তার পুরোটাই নেতিবাচক। তিনি যা আশা করেছিলেন তার বিপরীত প্রতিক্রিয়া এসেছে এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকা থেকে। তিনি ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সাইবার জগত ও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমসহ সব জায়গায় অব্যাহত রাখা আহ্বান জানান।

এদিকে জেরুসালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসাবে স্বীকৃতি দেবেনা ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন বলে জানিয়েছে

আমেরিকার মতোই ইউরোপও জেরুসালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেবে বলে প্রধানমন্ত্রী বিনিয়ামিন নেতানিয়াহু আশা প্রকাশ করলেও, ইইউ পররাষ্ট্র নীতিবিষয়ক প্রধান বলেছেন, তাদের নীতিতে কোন পরিবর্তন হচ্ছে না।

মি. নেতানিয়াহু এখন ব্রাসেলস সফরে এসে ইইউ নেতাদের সাথে বৈঠক করছেন। গত ২০ বছরে এই প্রথম কোন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী ব্রাসেলস সফর করলেন।

তিনি বলেন, তিনি আশা করেন যে যুক্তরাষ্ট্রকে অনুসরণ করে ইউরোপও জেরুসালেমকে তার দেশের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেবে এবং ইউরোপের দেশগুলো একে একে তাদের দূতাবাস জেরুসালেমে নিয়ে যাবে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, জেরুসালেম ২ হাজার বছর ধরে ইহুদি জনগণের রাজধানী ছিল।

কিন্তু ইইউ পররাষ্ট্র নীতিবিষয়ক প্রধান ফেদেরিকা মোগারিনি বলেন, এ বিষয়ে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের অবস্থানের কোন পরিবর্তন হয় নি, এবং এ ক্ষেত্রে তারা ‘আন্তর্জাতিক ঐকমত্যকেই’ অনুসরণ করবে।

“আমরা বিশ্বাস করি যে ইসরায়েল-ফিলিস্তিনি সংঘাতের একমাত্র বাস্তবসম্মত সমাধান হচ্ছে দুই-রাষ্ট্র ভিত্তিক সমাধান যার দুটিরই রাজধানী হবে জেরুসালেম” – বলেন তিনি। মিজ মোগারিনি দুনিয়ার সর্বত্র ‘ইহুদিদের ওপর সব ধরণেরও আক্রমণেরও নিন্দা করেন।’

ইসরায়েল বরাবরই জেরুসালেমকে তাদের রাজধানী বলে মনে করে আসছে। অন্যদিকে পূর্ব জেরুসালেমকে ফিলিস্তিনিরা তাদের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের রাজধানী বলে মনে করে – যা ইসরায়েল ১৯৬৭ সালে দখল করে নেয় ।

জেরুসালেমের ওপর ইসরায়েলের দাবি কখনোই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পায়নি। ইসরায়েলে সব দূতাবাসগুলোই অবস্থিত তেল আবিবে।

জেরুসালেমে ইহুদি, খ্রীষ্টান ও ইসলাম – এই তিন ধর্মেরই পবিত্র স্থান আছে।

মি ট্রাম্প জেরুসালেমকে ইসরায়েলি রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেবার পর ব্যাপক ফিলিস্তিনি ও বিভিন্ন দেশ ক্ষোভ ও নিন্দা জানায়। একে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ ও সহিংসতা হয় – যাতে এ পর্যন্ত চার জন নিহত হয়েছে।

আপডেট পেতে ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে সঙ্গেই থাকুন,ধন্যবাদ

Check Also

রাষ্ট্রপতি পদটিকে এত গুরুত্ব দেয় কেন রাজনীতি দলগুলো?

আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন। বর্তমান রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ আবদুল হামিদের …