Monday , October 18 2021
Home / জাতীয় / অপরাধ / গ্রামীণফোনের অফারে নানা রকম প্রতারণা

গ্রামীণফোনের অফারে নানা রকম প্রতারণা

৩৯ টাকা রিচার্জ করা হলে ১০ দিনের জন্য রাত ১২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত আধা পয়সা প্রতি সেকেন্ডে কলরেট প্রযোজ্য হবে, এমন অফার পাঠানো হয় গ্রামীণফোনের গ্রাহকদের নম্বরে। এই অফারটি মেসেজ পেয়ে ৩৯ টাকা রিচার্জ করেন একজন গ্রাহক; কিন্তু রিচার্জের পর সেই অফারের পরিবর্তে এক পয়সা প্রতি সেকেন্ড পাঁচ দিনের জন্য কলরেট প্রদান করা হয়। গ্রাহক তিন বার এই অফারটি পেতে রিচার্জ করলেও একই ঘটনার তিনবার পুনরাবৃত্তি করা হয়। এভাবে অফার দিয়ে প্রতারণা করায় সেই গ্রাহক অভিযোগ করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে।

অভিযোগকারী উল্লেখ করেন, এভাবে অফারের ঘোষণা দিয়ে অন্য অফারে যুক্ত করা এক ধরনের প্রতারণার শামিল। এর সুষ্ঠু প্রতিকার চেয়ে আবেদন করেছেন সেই গ্রাহক। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে এমনই নানা অভিযোগ জানাচ্ছেন গ্রামীণফোনের মোবাইল গ্রাহকরা। দেশে সর্ববৃহৎ গ্রাহকদের মোবাইল সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান গ্রামীণফোন এভাবেই নানা অফারের মাধ্যমে প্রতারণা করছে বলে অনেক গ্রাহক অভিযোগ করছেন।

অপর একজন অভিযোগকারী জানিয়েছেন, তিনি অনেক দিন পর একটি গ্রামীণফোনের সিম অন করেন। সেটি রেজিস্ট্রার্ড ছিলো কিনা, সেটি প্রাথমিক ভাবে জানা ছিলো না। সিমটি অন করার পর সবকিছু স্বাভাবিক দেখে ২০ টাকার রিচার্জ কার্ড কিনে রিজার্চ করেন তিনি। সেটি ব্যালেন্স আকারে শো করেছে। তার পর কোনো মোবাইল নম্বরে কল দিলে সেটি আর কাজ করেনি। গ্রাহক অভিযোগ করেন, যদি রেজিস্ট্রেশন করা নাই থাকে তাহলে সেই সিমে কী ভাবে রিচার্জ সম্ভব হলো? এভাবে গ্রাহকদের সাথে প্রতারণা করছে গ্রামীণফোন কোম্পানি।

অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গত জুন থেকে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে মোবাইল সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ৫৯১টি লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন গ্রাহকরা। এরমধ্যে গ্রামীণফোনের বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা পড়েছে ১৬৬টি। অন্য অপারেটরদের চেয়ে গ্রামীণফোনের বিরুদ্ধে অভিযোগ সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা গেছে। অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, একটি মোবাইল সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান উচ্চ আদালতে রিট করার কারণে গেলো মে মাসের পর ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এ সংক্রান্ত অভিযোগের নিষ্পত্তি করতে পারেনি। তবে ভোক্তারা এখনো লিখিত অভিযোগ জানাচ্ছেন।  রিটের নিষ্পত্তি হলে এসব অভিযোগের সুরাহা হবে। একটি অভিযোগের বিপরীতে সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা জরিমানা আদায় করতে পারে ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তর। সেই জরিমানার ২৫ ভাগ অর্থ দেওয়া হয় সেই অভিযোগকারীকে।

অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত বিভিন্ন মোবাইল কোম্পানির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগের বিপরীতে প্রায় ১০ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। যার ২৫ ভাগ অর্থ সংশ্লিষ্ট অভিযোগকারী পেয়েছেন। উচ্চ আদালতে রিটের কারণে মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না। তবে গ্রাহকদের আভিযোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। প্রতারণার শিকার গ্রাহকরা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে যে কোনো সময়ে অনলাইনেও অভিযোগ জানাতে পারছেন। ঢাকার বাইরেও বিভিন্ন জেলা কার্যালয়েও অভিযোগ করা যায়।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, dncrp.portal.gov.bd এই ঠিকানায় ভোক্তারা অনলাইনের মাধ্যমেও অভিযোগ জানাতে পারেন। অথবা কার্যালয়ে এসে লিখিত আকারে অভিযোগ জানাতে পারেন। অভিযোগের সাথে প্রতারিত হওয়ার বিভিন্ন নমুনা উপকরণ উপস্থাপন করতে হবে।

টপারবিডি বাংলা-৭৭ম ৩০৩২০

আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিন গ্রুপে যোগ দিন

Check Also

ফারমার্স ব্যাংক আমানত ফেরত দিতে পারছে না

অনলাইন ডেস্কঃ অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, তারল্য-সংকটের কারণে বর্তমানে ফারমার্স ব্যাংক গ্রাহকদের আমানত …