Thursday , November 14 2019
Home / খেলাধুলা / ক্রিকেট / দক্ষিণ আফ্রিকান পেসারদের পাল্টা জবাব দিয়েছেন ভারতীয়রা

দক্ষিণ আফ্রিকান পেসারদের পাল্টা জবাব দিয়েছেন ভারতীয়রা

অনলাইন ডেস্কঃ দক্ষিণ আফ্রিকার এক মাঠে পেসাররা নাভিশ্বাস তুলে দিচ্ছেন ব্যাটসম্যানদের। এমন এক বাক্যের পর এগিয়ে কোন দল, সেটা সাধারণত না বললেও চলে। কিন্তু মাঠটা যে জোহানেসবার্গ। ওয়ান্ডেরার্সে কখনো হারেনি ভারত। সে ইতিহাস অক্ষুণ্ন থাকবে কি না, সেটা আগামী দুই দিনই বলে দেবে। তবে দ্বিতীয় দিন শেষে এগিয়ে ভারতই। দ্বিতীয় ইনিংসে ১ উইকেট হারিয়ে ৪৯ রান করেছে সফরকারীরা। ৯ উইকেট হাতে রেখে ৪২ রানে এগিয়ে ভারত।

ভারতীয় পেসারদের ধন্যবাদ। ইদানীং টেস্ট ক্রিকেটটা বড্ড বিরক্তিকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। টেস্ট মানেই এখন স্বাগতিক দলের আধিপত্য। ঘরের মাঠে সবাই ছড়ি ঘুরিয়ে বেড়ায়। অন্যের মাঠে পা দিলেই সব প্রতিপত্তি হারিয়ে বসে। ভুবনেশ্বর কুমাররা অন্তত উল্টো স্রোতে চলার চেষ্টা করেছেন। তাঁদের দুর্দান্ত বোলিংয়েই তো দক্ষিণ আফ্রিকা অলআউট হয়ে গেল ১৯৪ রানে।

না, ভুল ভাববেন না। ভারত যে এরই মাঝে সিরিজ হেরে বসেছে কিংবা এ টেস্টেও প্রথম ইনিংসে লিড নিতে পারেনি, সেটা জেনেই কথাটা বলা হচ্ছে। টসের পরই জানা গেছে, অসাধারণ কিছু দেখা যাবে জোহানেসবার্গে। ক্রিকেট যে শুধুই ব্যাটসম্যানদের নয়, সেটা এবার ভালোভাবেই টের পাওয়াবেন বোলাররা। আরেকটু পরিষ্কার করে বললে পেসাররা। কোনো দলেই যে জায়গা হয়নি কোনো স্পিনারের। স্বাগতিক ও সফরকারী—দুই দলই পাঁচজন পেসার নিয়ে নেমেছে এবার। দশজন পেসার তাদের সর্বস্ব নিংড়ে দিচ্ছেন, রানের জন্য ধুঁকছেন ব্যাটসম্যান—এটা দেখার জন্যই তো টেস্ট ক্রিকেটের জন্ম!

এ কারণেই ধন্যবাদ দেওয়া যায় জসপ্রীত বুমরা, ভুবনেশ্বর কুমারদের। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১৮৭ রানে অলআউট হওয়ার পরও ভারত যে মাঠে এতটা আক্রমণাত্মক খেলতে পারল, সেটা তো তাঁদের সুবাদে। উইকেটের সাহায্য পেলে কতটা ভয়ংকর হয়ে ওঠা যায়, সেটাই দেখিয়ে দিলেন।

৬ রানে দিন শুরু করা প্রোটিয়ারা ডিন এলগারকে হারিয়েছে সপ্তম ওভারে। দক্ষিণ আফ্রিকান ওপেনারের দোষ নেই। অফ স্টাম্পের বাইরে ভুবনেশ্বরের সে বলে ব্যাট না ছুঁয়ে উপায় ছিল না। এবি ডি ভিলিয়ার্সের অবশ্য এটা বোলার সুযোগ নেই। ভুবনেশ্বরের এক বলে লেগ সাইডে শট খেলতে গিয়ে বোল্ড। এভাবে বললে অবশ্য ভারতীয় পেসারের সঙ্গে অন্যায় করা হবে। টানা আউট সুইঙ্গার দিতে দিতে হঠাৎ এক ইনসুইঙ্গার। সে ফাঁদেই আটকা পড়লেন ডি ভিলিয়ার্স। সে তুলনায় নাইট ওয়াচম্যান রাবাদা ছিলেন অনেক স্বচ্ছন্দ। ইশান্ত শর্মার বলে আউট হওয়ার আগে দুই ঘণ্টা উইকেটে ছিলেন, দলকে এনে দিয়েছেন ৩০টি মহামূল্যবান রান।

দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংসের বাকি গল্পটা আমলা, ফিল্যান্ডার ও বুমরার। বল ছাড়তে পারেন বলে বেশ প্রশংসিত হন ফাফ ডু প্লেসি। আজ সেটাই করার চেষ্টা করছিলেন বারবার। বুমরার এক লেট সুইংয়ে সে প্রশংসা মাটিতে গড়াল। কুইন্টন ডি ককের ব্যাট থেকে একটা খোঁচাও আদায় করে নিলেন বুমরা। ১২৫ রানে ৬ উইকেট হারানো প্রোটিয়ারা আশা খুঁজে ফেল ফিল্যান্ডার ও আমলার ব্যাটে। মাত্র ৪৪ রানের জুটি কিন্তু এ ম্যাচে এটাই-বা কম কী।

প্রায় চার ঘণ্টা উইকেটে কাটিয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়া আমলাও আউট হলেন বুমরার বলে। হুক করতে গিয়ে ফিল্যান্ডার আউট হওয়ার পর তো লিড নেওয়ার কথাই ভাবতে শুরু করে দিয়েছিল ভারত। মরনে মরকেল ও আন্দিলে ফিকোয়াওর ১৯ রানের জুটিটা বাধা হয়ে না দাঁড়ালে সেটাই হতো। দলকে লিড এনে দিতে না পারলেও শেষ দুই উইকেট তুলে টেস্টে প্রথম ৫ উইকেট বুঝে নিয়েছেন বুমরা। আর ভুবনেশ্বর নিয়েছেন ৩ উইকেট।

৭ রানের লিডটাই বড় হয়ে উঠতে পারত। ১৭ রানেই পার্থিব প্যাটেল (১৬) ফেরার পর সেটা মনেও হচ্ছিল। কিন্তু মুরালি বিজয় ও লোকেশ রাহুল বাকি দিনটা কাটিয়ে দিলেন কোনো অঘটন ঘটতে না দিয়ে। কাজটা যে সহজ ছিল তা নয়। কিন্তু প্রোটিয়া পেসারদের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে আজ। অফ স্টাম্পের বাইরের বলে অযথা খোঁচা মারার প্রবণতা আটকে দিন পার করাতেই মন দিয়েছেন এ দুজন। এতেই দ্বিতীয় দিন শেষে কপালে ভাঁজ নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে ফাফ ডু প্লেসিকে।

টপারবিডি বাংলা-৭৭ম  ১২১৮৩

আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিন গ্রুপে যোগ দিন

Check Also

ক্যান্সারের ঝুঁকি কমিয়ে দেবে কিসমিস!

কিসমিসে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, যা হাড় মজবুত করতে বেশ ভূমিকা পালন করে। কিসমিসে আরো …