Wednesday , November 14 2018
Home / জাতীয় / জলবায়ু পরিবর্তনে ভয়াবহ ক্ষতির মুখে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলগুলো
Global warming has the potential to drastically change our lives, unless we decide to do something about it now and prevent the most damaging effects.

জলবায়ু পরিবর্তনে ভয়াবহ ক্ষতির মুখে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলগুলো

এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে অপ্রতিহত জলবায়ু পরিবর্তন ভয়াবহ ক্ষতি বয়ে আনবে। ‘ঝুঁকিতে এ অঞ্চল : এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনে মানবিক ডাইমেনশন’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়। এতে বলা হয়, জলবায়ু পরিবর্তনে এই অঞ্চলের দেশগুলোতে ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধি হ্রাস, বর্তমান উন্নয়ন ধারা বাধাগ্রস্ত এবং মানুষের জীবনযাত্রার মান কমে যাবে। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, জলবায়ু পরিবর্তন এ অঞ্চলে স্বাস্থ্য ঝুঁকি বেড়ে যাবে।

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এবং পোস্টড্যাম ইনস্টিটিউট ফর ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট রিসার্চ (পিআইকে) যৌথ উদ্যোগে এই প্রতিবেদনটি তৈরি করে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, অঞ্চলে বায়ু দূষণের ক্ষতিকর প্রভাবে প্রতি বছরে ৩৩ লাখ লোক মারা যাচ্ছে। এ ধরনের মৃত্যুর তালিকায় চীন, ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ শীর্ষে রয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ২০৫০ সালের মধ্যে তাপ প্রবাহে বৃদ্ধ লোকের মৃত্যুর সংখ্যা ৫২ হাজার উন্নীত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এছাড়া ম্যালেরিয়া ও ডেঙ্গুর মতো রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। এতে আরো বলা হয়, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে বসতি সমস্যা, ব্যাপক অভিবাসন, বিশেষ করে নগর এলাকায় বৃদ্ধি পাবে। ফলে নগরীতে জনসংখ্যার চাপ বাড়বে এবং সেবামূলক খাতগুলোতে চাপ বাড়বে। বিশ্বব্যাপী তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড় ও টাইফুনের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। এই বৃদ্ধির পরিমাণ ৫০ শতাংশের বেশি হতে পারে। পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে বৃষ্টিপাত ২০ থেকে ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে।

অঞ্চলের উপকূল ও নিচু এলাকায় বন্যার ঝুঁকি বৃদ্ধি পাবে। ২৫ নগরীর মধ্যে ১৯টিতে সমুদ্র জলসীমা এক মিটার উচ্চতা বৃদ্ধি পাবে। এর মধ্যে ফিলিপাইনেই সাতটি উপকূলীয় বন্যায় অঞ্চলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হবে ইন্দোনেশিয়া। ২১০০ সাল পর্যন্ত এখানে প্রতিবছরে ৫৯ লাখ লোক ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

বাংলাদেশে একটি স্বাভাবিক বছরে নদী প্লাবিত এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে দেশের ২০ থেকে ২৫ ভাগ এলাকা প্লাবিত হতে পারে। একশত বছরের বন্যা পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এ সময়ে দেশের মোট এলাকার ৬০ ভাগ ভূখন্ড প্লাবিত হয়েছে।

বিগত ২০ বছরের মধ্যে তিন বছর যথাক্রমে ১৯৮৭, ১৯৮৮ ও ১৯৯৮ সালে বড় বন্যা হয়। এ সময় দেশের প্রায় ৬৫ ভাগ জায়গা প্লাবিত হয় ।প্রতিবেদনে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যা মোকাবেলায় প্যারিস চুক্তিতে উল্লেখিত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এতে এশিয়ার দেশসমূহের অর্থনীতির উন্নয়ন গতিধারা ধরে রাখতে এবং অঞ্চলের অতি দরিদ্র লোকদের রক্ষায় গৃহীত পদক্ষেপ বাস্তবায়নে সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

প্রতিবেদনে টেকসই উন্নয়ন এগিয়ে নিতে, বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণ বন্ধে সক্ষমতা বাড়ানোর তাগিদ দেয়া হয়।

 

আরও পড়ুন

আগামী নির্বাচনে মহাজোটের সঙ্গে থাকবো কিনা সেটা পরিস্থিতিই বলে দেবে

টপারবিডি ডেস্কঃ প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত ও জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ বলেছেন, আগামী নির্বাচনে …