Saturday , December 15 2018
Home / আন্তর্জাতিক / ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি চীনের, ২৩ লাখ সেনা সদস্যকে যুদ্ধের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে চীন

ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি চীনের, ২৩ লাখ সেনা সদস্যকে যুদ্ধের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে চীন

অনলাইন ডেস্কঃ  প্রতিবেশি ভারতের সঙ্গে চীনের দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের। সম্প্রতি নানা ইস্যুতে চীন-ভারত স্নায়ুযুদ্ধ চলছে। দক্ষিণ চীন সাগরে অধিপত্য বিস্তার নিয়ে দু’দেশের মধ্যে উত্তেজনা এখনো প্রশমিত হয়নি।

এমন পরিস্থিতিতে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির ২৩ লাখ সেনা সদস্যকে বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। প্রধানত যুদ্ধজয়ের লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ। ধারণা করা হচ্ছে ভারতের সঙ্গে যুদ্ধের জন্যই ২৩ লাখ সেনা সদস্যকে যুদ্ধের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে চীন।

ভারতের হিন্দি দৈনিক জাগরণের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলো থেকে এটা পরিষ্কার, আলোচনার টেবিলে সমাধান খোঁজার বদলে তরবারির ডগাতেই সমস্যা মেটাতে চাইছেন তিনি।

সংবাদ মাধ্যমটির খবরে বলা হয়েছে, ভারতের সীমান্ত পেরিয়ে চীনের সেনা যে একাধিকবার প্রবেশের চেষ্টা করেছে, তাও প্রমাণিত। সম্প্রতি ভারতের উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হরিশ রাউতও চীনা সৈন্যদের অনুপ্রবেশের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। উত্তরাখণ্ড-চীন সীমান্ত দিয়েই ভারতে ঢোকার প্রয়াস করেছে সেনারা। প্রশ্ন উঠছে, তবে কি ভারতের সঙ্গে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে চীন?

জাগরনের খবরে বলা হয়েছে, ক্ষমতায় আসার পর থেকে গত চার বছরে চীনা সেনাবাহিনী পিএলএ-কে ঢেলে সাজিয়েছেন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। বিশ্বের বৃহত্তম এই সেনাবাহিনীর সঙ্গে তাদের প্রতিবেশী দেশগুলির সীমান্ত অতিক্রম নিয়ে বিতর্ক অবশ্য কিছু কমেনি। দক্ষিণ চীন সাগরে আন্তর্জাতিক জলসীমা বিষয়ে কোনও নিয়ম বা নীতিই বেজিং অনুসরণ করে না বলে অভিযোগ। সাম্প্রতিককালে সমুদ্রসীমা বিষয়ে আন্তর্জাতিক আদালতের রায়ও তাদের পক্ষে যায়নি।

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের অনুমান, সিকিম ও অরুণাচল সীমান্তে ভারতীয় সেনার বিরুদ্ধে যুদ্ধে রসদ ও সেনা পাঠানোর ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা নেবে এই দুটি ব্রিগেড। সেজন্যই তাদের দক্ষিণ তিব্বতে ব্রহ্মপুত্রের অববাহিকায় মোতায়েন করা হয়েছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, লালফৌজের এই বৃহত্তম মহড়ার বার্তা খুব স্পষ্ট। তা হল, চিনের কমিউনিস্ট পার্টি ও সরকার বড় কোনও সংঘর্ষ বা আগ্রাসনের পূর্ব প্রস্তুতি নিচ্ছে। কারণ ভারত ও ভুটান এককাট্টা হয়ে চিনের বিরুদ্ধে অনড় অবস্থান নিয়েছে। এই অবস্থায় চিনের স্থলসেনার ‘মারমুখী মহড়া’ সিকিম নিয়ে অন্য ইঙ্গিত দিচ্ছে। এর আগে তিব্বতের রাজধানী লাসার কাছে এরকমই বড়সড় মহড়া চালিয়েছে চিনের স্থলসেনা। ঘন ঘন এই মহড়ায় ঠিক সেইসব অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামই ব্যবহার করা হয়েছে যেগুলি পার্বত্য যুদ্ধে শত্রুর হামলা প্রতিহত করতে ও শত্রুর জমি দখল করতে কৌশলগতভাবে কাজে লাগে। ফলে বেজিংয়ের এই মহড়া দুটির লক্ষ্য প্রতিবেশী ভারত তা দিনের আলোর মতোই স্পষ্ট।

তবে চুপ করে বসে নেই ভারতও। সাম্প্রতিককালের মধ্যে বিশ্বের বৃহত্তম নৌমহড়ায় অংশ নিয়েছে ভারত, আমেরিকা ও জাপানের নৌবাহিনী। গত কয়েকদিন ধরে বঙ্গোপসাগরে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে মার্কিন বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস নিমিৎজ। সঙ্গে রয়েছে ভারতের বিমানবাহী বিশালাকায় যুদ্ধজাহাজ আইএনএস বিক্রমাদিত্য এবং জাপানি যুদ্ধজাহাজ জেএস ইজুমো। অংশ নিয়েছে তিন দেশের নৌবাহিনীর ১০০টি যুদ্ধবিমান। চেন্নাই থেকে ১০০ নটিক্যাল মাইল দূরে এই মহড়া চলছে। পরে মহড়ার এলাকা বাডি়য়ে আন্দামান সাগরেও মহড়া চালানো হবে। ভারত ও মার্কিন নৌবাহিনীর পসেইডন এইট এ, পসেইডন এইট ওয়ান বিমান, মিগ ২৯ কে, সুখোই ৩০-সহ অনেক যুদ্ধবিমান অংশ নিয়েছে।জাপান নৌবাহিনীর নয়টি সাবমেরিন ধ্বংসকারী উন্নত হেলিকপ্টার এই মহড়ায় অংশ নিয়েছে। উল্লেখ্য, দক্ষিণ চিন সাগরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে জাপান, আমেরিকা—সহ সাতটি দেশের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে জড়িয়েছে চিন। সেনকাকু দ্বীপ-সহ দুটি দ্বীপের দখল নিয়ে জাপানের সঙ্গে চিনের উত্তেজনা এখন চরমে।

আরও পড়ুন

চীনা সেনাবাহিনীকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতির নির্দেশ

অনলাইন ডেস্কঃ সর্বদা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকতে ও মৃত্যুকে ভয় না পেতে সেনাবাহিনীর প্রতি আহ্বান …